মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর উত্তরা ডিয়াবাড়ি পশুর হাটে অনিয়ম চাঁদাবাজী, রাস্তা দখল করে গবাদিপশু রাখা, রাস্তার উপরেই ডাম্পিং স্থাপন, সড়কের মাঝে থাকা ডিভাইডারের কাটাতারের বেড়া কেটে ছাগল রাখা, দুইটি সেক্টর ১৬ এবং ১৮ এর সি ব্লকের নির্দিষ্ট স্থানে গবাদিপশুর হাট করার অনুমোদন থাকলেও তা ছাড়িয়ে গেছে সেক্টর ১৫” ১৬” ১৭” ১৮, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ উত্তরা দিয়াবাড়ি পশুর হাট। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ও খামারিদের অভিযোগ, হাটের শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানামুখী চাঁদাবাজি ও হয়রানি, যার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা গবাদিপশুর বেপারিরা।
সরেজমিনে হাট গিয়ে ভুক্তভোগী বেপারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাটে গরুর জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পুরো হাট এলাকায় পর্যাপ্ত টিউবওয়েল বা পানি না থাকায় পশুকে পানি খাওয়ানো এবং নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিতে হাটের ভেতরের পরিবেশ আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ইজারাপক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রিপালের (শামিয়ানা) ব্যবস্থা না করায় খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজেছে কোটি কোটি টাকার কোরবানির পশু। এতে অনেক গরু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা।
অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হাটে চলছে প্রকাশ্য ও গোপন চাঁদাবাজির মহোৎসব। বেপারিদের অভিযোগ, হাটে এক ট্রলি বা এক গাড়ি বালু কিনতে তাদের কাছ থেকে রাখা হচ্ছে ২৫০০ টাকা করে, যা গরু রাখার সুবিধার্থে দেয়ার কথা ছিল ইজারাদার কর্তৃপক্ষের, এখন আমরা ব্যবসায়ীরা নিজ অর্থে কিনতে হচ্ছে বালু যা স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে বেশি। এছাড়া হাটে এসেও ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে পশু রাখতে পারছেন না। নিজেদের পছন্দমতো সুবিধাজনক জায়গা নিতে গেলেই গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এমনকি গরুর গাড়ি বা পিকআপের জন্য ইজারাদারের লোক পরিচয় দিয়ে ৫ হাজার টাকা করে জোরপূর্বক স্টিকার বা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে সড়ক দখল করে রাখা হয়েছে গবাদিপশু সড়কের মাঝখানে থাকা ডিভাইডারের কাঁটাতারের বেড়া কেটে রাখা হয়েছে ছাগল ভেড়া এতে করে নষ্ট হচ্ছে ডিভাইডারের মাঝখানে লাগানো গাছ গাড়া।
কুষ্টিয়া থেকে আসা এক গরু ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দূর থেকে লাখ লাখ টাকার পশু নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে এসে দেখি কোনো নিরাপত্তা বা নুন্যতম সুযোগ-সুবিধা নেই। বিক্রেতাকেই নিজেদের দায়িত্বে এবং নিজ খরচে কষ্ট করে গরু রাখার জায়গা ঠিক করতে হচ্ছে। তার ওপর পদে পদে টাকা দাবি করা হচ্ছে। এভাবে চললে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।”
সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহল মনে করছেন, ইজারাপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতা এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে শেষ পর্যন্ত পশুর দামের ওপর এর প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে দিয়াবাড়ি হাটে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং পানির সংকটসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসকল অভিযোগের বিষয়ে প্রধান ইজারাদার মোহাম্মদ শেখ ফরিদ হোসাইনে মানিকের কাছে কোন উত্তর দেয়নি তিনি পরে কথা হবে বলেই ফোন কেটে দেন।
এসকল বিষয়ে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন। আমরা চাঁদাবাজির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করব,সড়ক বন্ধ করে গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কিছুক্ষণ পরপরই সড়ক থেকে গরু সরিয়ে দিচ্ছি পুনরায় আবারও বসেন ব্যাপারীরা, অন্যদিকে এসকল বিষয় জানতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মুঠো ফোনে একাধিক বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।