শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর উত্তরার সড়কে আতঙ্কের আরেক নাম আসমানী পরিবহন, ভিক্টর ক্লাসিক, আব্দুল্লাহপুর নবীনগর পরিবহন,এসকল পরিবহনের এলোমেলো চলাচল,বাড়তি ভাড়া আদায়ে সাধারণ যাত্রীদের মারধর,রাস্তা দখল করে দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে যানযট তৈরি করা, অনুমোদনহীন সড়কে চলাচল, ফিটনেসবিহীন লক্কর ঝক্কর আর বেপরোয়া গতিতে, চলাচল করা আসমানী পরিবহন, ও ,ভিক্টর ক্লাসিক” বেপরোয়া। এদের জিপি নামক চাঁদার হাড়ও আকাশ ছোঁয়া। আসমানী পরিবহনের চাঁদাবাজ চক্রের কাছে জিম্মি চালক ও সাধারণ পরিবহন মালিকরা। রাজধানীর ডেমরা রুটে চলা আসমানী পরিবহনের ৭৪ থেকে ৮০ টি বাস থেকে প্রতিমাসে বিভিন্ন পয়েন্টে আনুমানিক ৩১ লক্ষ্য টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনের চালক ও সাধারণ মালিকরা। তবে এবিষয়ে আসমানী পরিবহন কর্তৃপক্ষের এক সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন চাঁদা তোলার বিষয়টি সঠিক। প্রতিদিন মোটা অংকের এ চাঁদা তোলার কারণে পরিবহন টিকে আছে আর নাহয় খারাপ পরিস্থিতি মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু আসমানী পরিবহনের আরো একজন সদস্য বলেন চাঁদা তুলে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট, রাজনৈতিক—প্রভাবশালী মহল,কতিপয় ট্রাফিক, পয়েন্ট ভিত্তিক লোকজন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছি অনুমোদনহীন, ফিটনেস বিহীন, লাইসেন্স ছাড়াই, সড়কে দাঁপিয়ে বেড়ানো গাড়ি গুলোর জন্য সব চাইতে বেশি প্রতিবন্ধকতা হওয়াসহ নানা সমস্যা দূর করে আসমানী পরিবহন সেক্টরকে নিরাপদে রাখতেই এই চাঁদাবাজী হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনুমোদনকৃত কিছু গাড়ি ডেমরা রুটে চলাচল করলেও আসমানি পরিবহন মূলত ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রামপুরা হয়ে আব্দুল্লাহপুর চলাচলের কথা থাকলেও পরিবহনটি ৮০ টি বাস প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন মদনপুর মাঠ থেকে ছেড়ে এসে আব্দুল্লাহপুর হয়ে অবৈধভাবে ধউর বেড়িবাঁধ এসে দীর্ঘ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে স্থানীয় পরিবহনের লোকজন থাকায় তেমন কোন সমস্যা হয় না, টাকা হলে সবই সম্ভব। এছাড়াও প্রতিদিন প্রতিটি আসমানী বাস বাবদ মদনপুর নামক স্থানে হিরো ৭শ থেকে ৮শ টাকা জিপি ও উত্তরার ধউর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পরিবহনটির পার্কিং স্পটে ৩শ টাকা আদায় করচ্ছেন আসমানি পরিবহনের বর্তমান নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গরা। এছাড়াও স্টাফ কোয়ার্টারে, রামপুরা,কুড়িল বিশ্বরোড ও আব্দুল্লাহপুর ধউর বেড়িবাঁধে সব মিলিয়ে সর্বমোট ১৩শ থেকে ১৪শ টাকা আদায় করা হয়। প্রতিটি পয়েন্টে নির্ধারিত লাইনম্যানদের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করছে। যার মধ্যে অন্যতম রয়েছে উত্তরার পরিবহন সেক্টরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ তাজুল ইসলাম তাজু (৩৬)।
এবার পরিচয় হওয়া যাক ভিক্টর ক্লাসিক এর সাথে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনটি,সড়কে দৃশ্যমান এক আতঙ্কের নাম ভিক্টর ক্লাসিক, বেপরোয়া চলাচল,লাইসেন্স বিহীন চালক, ভাঙ্গাচুরা ফিটনেস বিহীন ও চলাচলের অউপযুগী ভিক্টর। ২০১৯ সালের ২০ মার্চ বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার পর জাবালে নূর বাসের নিবন্ধন বাতিল করা হলে। সেই সুপ্রভাত পরিবহন ও জাবালে নূরের নিষিদ্ধ পরিবহনই আজকের ভিক্টর ক্লাসিক,,লক্কর ঝক্কড় কাগজপত্রহীন পরিবহন টি সদরঘাট বাইপাল গুলিস্তান আব্দুল্লাহপুর কামারপাড়ায় চলাচল করেন। বর্তমানে পরিবহনটির চেয়ারম্যান মো: মানিক তার নেতৃত্বে এখানেও চাঁদাবাজ চক্রের একক রাজত্বে মেতে আছে। জিপি নামক চাঁদা ৬শ থেকে ৭০০টাকা। বাসটির একজন চালক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন জিপি ছাড়াও নতুন করে এই ব্যানারে গাড়ি যুক্ত করতে গুনতে হয় লাখের বেশি টাকা।
অন্যদিকে ফ্যাসিবাদের পতমের আগে ও পরে দাপটের সাথে চলা একই পরিবহন নামমাত্র ব্যানারে বিভিন্ন নামে চলা পরিচিতির সুবিধার্থে কয়েকটি নাম উল্লেখ করে যাচ্ছি, আশুলিয়া ক্লাসিক, আলী নূর পরিবহন, স্মার্ট ক্লাসিক, নবীনগর পরিবহন সর্বশেষ আব্দুল্লাহপুর নবীনগর পরিবহন নামেই বর্তমান চলছে।
যদিও পরিবহন টির মহাখালীর মালিক সমিতির অনুমোদন প্রাপ্ত মহাখালী থেকে টাঙ্গাইল ও জামালপুর, চলাচলের,তবে অজ্ঞাত কারনে তা অবৈধ ভাবে নবীনগর চলাচল করেন। একাধিক অভিযোগে দুইটি ব্যানার বন্ধ হলেও একই পরিবহন নামমাত্র অবৈধ ব্যানারে আব্দুল্লাহপুর নবীনগর পরিবহন নামেই চলছে, যার সাবেক নাম ছিল আশুলিয়া ক্লাসিক পরিবর্তিত নাম আলী নূর”বেপরোয়া গতি ঘন ঘন দুর্ঘটনা”সড়কে একক রাজত্ব,একই রোডে অন্য ব্যানারে চলা গাড়িচাকল ও যাত্রীদের মারধর ছাড়াও বাসের ভিতরেই গনধর্ষণের মত ঘটনার কারণে পরিবহনটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে,হাজারো অভিযোগে অভিযুক্ত পরিবহনটি নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিবহন টি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এই পরিবহন ব্যানারটিতে স্থানীয় আওয়ামী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির গাড়ি থাকায় বিগত সরকারের আমলে দাপটের সাথে ফিটনেস বিহীন কাগজপত্র ছাড়াই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন পরিবহনটি। নামমাত্র ব্যানারে অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে চলছিল এই পরিবহনটি। সরকার পরিবর্তনের পর এখনো সেই আগের মতই চাঁদাবাজির মধ্য দিয়েই চলছে পরিবহনটি।
এদিকে চালক ও হেলপারদের দাবি, অন্যের পথ রোধ করে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে চান না তারা। কিন্তু অতিরিক্ত গাড়ি, দিনচুক্তির ভাড়া ও গেট পাস (জিপি) নামক চাঁদার অর্থ তুলতে রাস্তায় এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। একজন চালক জানান, আমরা অন্য গাড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করতে চাই না। সড়কে অনেক গাড়ি বেড়ে গেছে। আসা-যাওয়া দুই ট্রিপে অনেক টাকা খরচ হয়। এরপর ড্রাইভার ও স্টাফদের বেতন” পরে গাড়ি মালিকের টাকা। তিনি আরো জানান, গেট পাস (জিপি) দিলে সড়কে সুবিধা পাওয়া যায়। সার্জেন্ট বাস আটকালে লাইনম্যানদের সহযোগিতা পাওয়াসহ, দুর্ঘটনার ঘটলেও তারা মীমাংসা করে দেয়। আরেকজন চালক বলেন, সার্জেন্টরা টাকা নেয়ার কারণে সুবিধা পাওয়া যায়। অন্যথায় বড় অঙ্কের মামলা দেয়া হয়।
এই টাকার গন্তব্য অনেক দূর পর্যন্ত বলে জানান কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহণ সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, সার্জেন্টদের সাপ্তাহিক টাকা, ট্রাফিক ইন্সট্রাক্টরদের মাসিক
টাকা মাসোহারা। (পর্ব ১)