শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

*জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বিপ্লব হবে অপূর্ণ: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
খবর প্রতিদিন প্রতিবেদনঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, “দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় । জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বিপ্লব হবে অপূর্ণ রয়ে যাবে। সংস্কারবিহীন নির্বাচন হলে আবারও ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে। যারা আওয়ামী আমলের মতো স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর যাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাও আজ ফ্যাসিবাদের সাথে আপস করছে। এই বাস্তবতায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে।
২৪ আগস্ট রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজিত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’-এর আইনি ভিত্তি র্শীষক গোল টেবিল বৈঠাকে তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ, রাজনীতিক ও আন্দোলনকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য এবং বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-শিক্ষক ও জনতার সম্মিলিত গণ-অভ্যুত্থান এক অনন্য মাইলফলক। এর রাজনৈতিক ফসল ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র হলেও, এ দলিল এখনো আইনি ভিত্তি পায়নি। এটি নিশ্চিত করতে না পারলে বিপ্লবের অর্জন কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৯১টি দেশে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি চালু হলে স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ হবে, সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং বহু দলীয় অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। বক্তারা দাবি করেন, “প্রার্থী নয়, প্রতীকে ভোট” এই ভিত্তিতে নির্বাচন হলেই জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল হলেও এটি এখনো অসম্পূর্ণ। এতে শহীদদের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন, ইসলামপন্থীদের অবদান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর ও ২০০৬ সালের লগি বৈঠার হত্যাকাণ্ডের সঠিক উল্লেখ নেই। বক্তারা দাবি করেন, “এই ঐতিহাসিক দলিলকে পূর্ণাঙ্গ রূপে বাস্তবায়ন করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের স্বীকৃতি নিতে হবে।”
সভার সভাপতি অধ্যাপক ড. এম কোরবান আলী বলেন, “পিআর পদ্ধতি শুধু একটি নির্বাচন পদ্ধতি নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে হলে এ সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মো: সিরাজুল ইসলাম, সভাপতি, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক পরিষদ, জিএম আলাউদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ, অধ্যক্ষ ড. মো: সাখাওয়াত হোসাইন, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদ, অধ্যক্ষ মো: মুনজুরুল হক, সভাপতি, বাংলাদেশ মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক পরিষদ, অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সভাপতি, বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষক পরিষদ, অধ্যাপক নূর নবী মানিক, সভাপতি, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদ, অধ্যক্ষ ড. মাওলানা শাহজাহন মাদানী, সভাপতি, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ, প্রফেসর ড. আবুল কালাম পাটোয়ারী, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ, প্রফেসর ড. উমার আলী, সভাপতি, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ, মো: ইব্রাহিম- কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগীয় সেক্রেটারি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন , মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কাসেমী-সহকারী অধ্যাপক, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি (জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত),ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া- সাবেক সহ-সভাপতি সুপ্রিমকোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশন ও সভাপতি, মানবিধিকার সমাজ উন্নয়ন সংস্থা প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাছুম- সাবেক ভিসি, বরিশাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবং অন্যান্য শিক্ষা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
বক্তারা সরকার ও রাজনৈতিক দলসমূহকে অনতিবিলম্বে একটি ঐকমত্য ভিত্তিক আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন এবং ‘জুলাই সনদ’-কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।