শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
তুরাগের নয়ানীচালায় স্বামীর পরকীয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যা, উত্তরায় তিন পরিবহনের চাঁদাবাজী মাসে কোটি টাকার বেশি  জিপি নামক চাঁদায় অসহায় চালক ও মালিকরাঃ  উত্তরায় রিকশা তাড়াতেই কাটছে ট্রাফিক পুলিশের দিন, দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে অটোরিকশাঃ  গৌরীপুরে পাম্প থেকে ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার❞ ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৮০ “ত্রিশালে বাবার হাতে শিশু সন্তান খুন” উত্তরায় পুলিশের ওপর হামলা: অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং লিডারসহ গ্রেফতার ৮ আদালতে পাঠানো ১৬” টাকা না দেওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চালান উত্তরায় রাজউকের মোবাইল কোর্ট : রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন দোকান সিলগালা লিজকৃত জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন, বাধা দেওয়াই মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি

প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ: ক্ষমাঃনূরে আলম সবুজ

রিপোর্টার নাম ঃ / ১১৮ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন

নূরে আলম সবুজ:
প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ: ক্ষমা

খবর প্রতিদিন প্রতিবেদন ঃআদালত থেকে খলিফা হারুন অর রশিদের নিকট চিঠি এলো: শহরের বিচারক এক মাস যাবত অসুস্থ। এজন্য বিচারকাজ স্থগিত আছে। খলিফা যেন দ্রুত বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।

হারুন অর রশিদ চিঠির জবাব পাঠালেন:
অতি শীঘ্র নতুন বিচারক কাজে যোগদান করবেন।

কয়েকদিন পরের কথা। নতুন বিচারকের অধীনে বিচার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রহরীরা একজন বৃদ্ধ মহিলাকে আসামী হিসেবে দরবারে হাজির করলেন। তার অপরাধ তিনি শহরের এক রেস্তারাঁ থেকে রুটি আর মধু চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।

বিচারক: আপনি চুরি করেছেন?

বৃদ্ধা: (মাথা নিচু করে) জি।

– আপনি কি জানেন না চুরি করা কত বড় পাপ?

– জানি।

– জেনেও কেন চুরি করলেন?

– কারণ আমি গত এক সপ্তাহ যাবৎ অনাহারে ছিলাম । আমার সাথে এতিম দুই নাতিও না খেয়ে ছিল। আমি ওদের ক্ষুধার্ত চেহারা এবং কান্না সহ্য করতে পারিনি, তাই চুরি করেছি। আমার কাছে এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

বিচারক এবার পুরো এজলাসে চোখ বুলালেন। এরপর বললেন, “কাল যেন নগর প্রধান, খাদ্যগুদাম প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ আদালতে উপস্থিত থাকেন। তখন এই মামলার রায় দেওয়া হবে।”

পরদিন সকালে সবাই হাজির। বিচারকও যথাসময়ে উপস্থিত হলেন। সবার সামনে তিনি রায় ঘোষণা করলেন:
বৃদ্ধা মহিলার চুরির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১ বছর কারাদণ্ড, ৫০টি চাবুক এবং ১০০ দিনার অর্থদণ্ড প্রদান করা হলো।

তবে অকপটে সত্য বলার কারণে কারাদণ্ডের সাজা মাফ করা হলো। বিচারক প্রহরীকে চাবুক আনার নির্দেশ দিয়ে নিচে নেমে ওই বৃদ্ধ মহিলার পাশে দাঁড়ালেন।

বিচারক বললেন, “যে নগরে একজন ক্ষুধার্ত বৃদ্ধ মহিলা না খেতে পেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় চুরি করতে বাধ্য হয়, সেখানে তো সবচেয়ে বড় অপরাধী সে দেশের খলিফা। আর আমি এসেছি খলিফার প্রতিনিধি হয়ে। আমি যেহেতু তার অধীনে চাকরি করি তাই ৫০টি চাবুকের ২০টি আমার হাতে মারা হোক। এটাই হলো বিচারকের আদেশ। আদেশ যেন অবিলম্বে পালন করা হয় এবং বিচারক হিসাবে আমার উপর চাবুক মারতে যেন কোনো রকম করুণা বা দয়া দেখানো না হয়।”

বিচারক তার হাত বাড়িয়ে দিলেন । দুই হাতে পর পর ২০টি চাবুক মারা হলো। চাবুকের আঘাতের বিচারকের হাতের তালু থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ওই অবস্থায় তিনি পকেট থেকে একটি রুমাল বের করলেন। কেউ একজন তার তালু বাঁধার জন্য এগিয়ে গেলে তিনি হাত উঁচু করে নিষেধ করলেন।

এরপর বিচারক বললেন, “যে শহরে নগর প্রধান, খাদ্য গুদাম প্রধান ও অন্যান্য সমাজ হিতৈষীরা একজন অভাবগ্রস্ত মহিলার ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হন, সেই শহরে তারাও অপরাধী। তাই বাকি ৩০টি চাবুক সমানভাবে তাদেরকে মারা হোক।”

বিচারকের আদেশ পালন করা হলো।

এবার বিচারক উপস্থিত সবাইকে বললেন, “যে সমাজ একজন বৃদ্ধ মহিলাকে চোর বানায়, যে সমাজে এতিম শিশুরা অনাহারে থাকে, সে সমাজের সবাই অপরাধী। তাই উপস্থিত সবাইকে ১০০ দিনার করে জরিমানা করা হলো।”

এই বলে তিনি নিজের পকেট থেকে ১০০ দিনার বের করে রুমালের ওপর রাখলেন। সবাই জরিমানার টাকা জমা দেবার পর গুনে দেখা গেল প্রায় ১০,০০০ দিনার হয়েছে।

তখন তিনি ওই ১০,০০০ দিনার থেকে ১০০ দিনার জরিমানা বাবদ রেখে ৫০ দিনার চুরি যাওয়া দোকানের মালিককে দিলেন। অবশিষ্ট ৯,৮৫০ দিনার বৃদ্ধ মহিলাকে দিয়ে বিচারক বললেন, “এগুলো আপনার ভরণপোষণের জন্য। আর আগামী মাসে আপনি খলিফা হারুন অর রশিদের দরবারে আসবেন। খলিফা আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী!”

এক মাস পরে বৃদ্ধা খলিফার দরবারে গিয়ে দেখেন, খলিফার আসনে বসা লোকটিকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। মহিলা ভয়ে ভয়ে খলিফার আসনের দিকে এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন লোকটি সেদিনের সেই বিচারক। খলিফা চেয়ার থেকে নেমে এসে বললেন, “আপনাকে ও আপনার এতিম দুই নাতিকে অনাহারে রাখার জন্য সেদিন বিচারক হিসেবে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আজ দরবারে ডেকে এনেছি প্রজা অধিকার সমুন্নত করতে না পারায় অধম এই খলিফাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য। আপনি দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *