শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

ভিলেজ পলিটিক্স”
মুহাম্মদ রাইস উদ্দিন –
ভিলেজ পলিটিক্স একটি বহুলপরিচিত শব্দ। সমাজে এমন কোন একটা লোক পাওয়া যাবেনা যে ব্যাক্তি এই শব্দের সাথে অপরিচিত। এটিকে অধিকাংশ খেত্রে ঘৃণ্য গ্রাম্য রাজনীতি হিসেবে মানুষ জানে।
গ্রামীণ সমাজের ভণ্ডামি, কূটচাল’ মাতব্বর শ্রেণি হলো ভিলেজ পলিটিক্স নামক ক্যানসারের জীবাণু, এদেরকে ‘সমাজের কীট’ বলা হয়। সমাজের কীটদের আচরণ এতোই রহস্যময় ও জঘন্য যে, গ্রামে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে এরা কখনোই নিরাপরাধীর পক্ষে থাকে না। কারণ সেখানে লাভের অঙ্ক শূন্য। এক গাদা অশিক্ষা আর বস্তাখানেক মিথ্যার সংমিশ্রণে এরা হয়ে ওঠে আজব এক প্রাণী।
এই প্রাণী গ্রামের সহজ সরল, নিরীহ মানুষের মায়া, মমতা, আবেগ ও অনুভূতিসমূহ নিয়ে ছেলে খেলা করে। এরা অসহায় নিরীহ মানুষের রক্ত চুষে হয়ে উঠে প্রতাপশালী কিংবা প্রভাবশালী। যার সঙ্গে তাদের মূর্খতা, পেশিশক্তি আর নিরক্ষরতার দাপট যুক্ত হয়ে গ্রাম হয়ে ওঠে ‘মিথ্যা, অহংকার, প্রতারণা আর প্রবঞ্চনার লীলাক্ষেত্র।’
একবার এক গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার চায়ের স্টলে চা খেতে খেতে লক্ষ্য করলাম। একজন ভুক্তভোগী আর্তনাদ। তার দুঃখভরা কন্ঠে অবলীলায় উচ্চারিত হচ্ছে!
– হারামজাদার মরন অয়না ক্যান?
কত ভালো ভালো মানুষ মইরা যাইতাছে আর ঐ হারামির’ একটু অসুখও অয়না।এমন এক জাগায় বইয়া থাহে সালাম না দিয়া যাওন যায়না।
কথাগুলো বলে একট দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লেন।
বসে বসে ভাবলাম যারা গ্রাম্য রাজনীতি করে তাদের সবাই ঘৃনা করলেও বাধ্য হয়ে সালম বা সম্মান দেখাতে হয় নইলে বিপদের আশংকা শতভাগ।এরা কারও বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী হয়না।সমাজের রক্ত চুষা জুক।
স্বার্থ ছাড়া একপা নড়ে না এরা।যুগ যুগ ধরে বহালতবিয়তে এদের বিচরণ। অন্যের জমিদখল থেকে শুরু করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক না দিয়ে ধমকি হুমকি দেয়া এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
জাতীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গও তাদের সমীহ করে চলে।এরা তাদের চারপাশে এমন নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে যাদের ব্যবহার করে সমাজে সকল অপতৎপরতা চালিয়ে থাকে।যারাই এই অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দাড়ায় তাদেরকে রাতের আঁধারে গুম ক্ষুন করতে একটু বাঁধেনা।
গ্রামের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাজনীতি ঢুকে পড়েছে। গ্রামের হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, এমনকি মসজিদগুলোর কমিটি পর্যন্ত তারা তাদের অনুগত দাসদের দ্বারা গঠিত হয়। কবরস্থান মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছে।সমাজিক উন্নয়নের ছ্দ্মাবরণে চলছে নিজের খ্যাতি ও জসপ্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা।এরা অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত হয়েও উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ কলঙ্কিত করছে।এদের ছত্রছায়ায় গাঁজাখোর ও যৌন হয়রানির মামলায় কারাবরণ করা ব্যক্তি সামাজিক সংগঠনগুলোর আহ্বায়ক হচ্ছে এদের প্রশ্রয়ে। ফলে সচেতন ও শিক্ষিত মানুষ সমাজবিমুখ হয়ে পড়ছেন।
যারা উচ্চ শিক্ষিত ভদ্রলোক তারা কেউ প্রতিবাদী হোন না।গা বাঁচিয়ে চলাটা তাদের স্বভাবে পরিনত হয়েছে।কোন রকম জোট ঝামেলায় জড়াতে চাননা নিজেদের । দু-চারজন সমাজপ্রেমী ব্যক্তি এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলেও হুমকি, ধমকি ও মামলার শিকার হচ্ছেন। জবাবদিহিতার বালাই নেই কোথাও। এভাবে গ্রামগুলো হারাচ্ছে ইতিহাস-ঐতিহ্য।একারনেই
ঐ কুচক্রীমহল অর্থাৎ তথাকথিত সমাজ পতিরা দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
ভেবেছিলাম পুরনো প্রজন্মের দুশ্চরিত্রের লোকগুলো মারা যাওয়ার পর নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সমাজটা পাল্টে দিবে।পরিতাপের বিষয় হলো শয়তান সব সময় নতুন রুপে আবির্ভাব হয় এদের ধ্বংস নেই।
তবুও আশাহত হওয়া যাবেনা। কেউনা কেউ অবশ্যই আসবে যাদের নেতৃত্বে এরা কুন ঠাসা হবে।আশায় বুক বেধে আছি একদিন প্রতিটা সমাজথেকে অপরাজনীতি
বিতাড়িত করে সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ গড়ে তুলা হবে।