শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

যারা মূর্খ তারাই কেবল ইসলাম ও ইসলামীদল সমূহের বিরোধিতা করে-
মুহাম্মদ রাইস উদ্দিন –
খবর প্রতিদিন ঃ
আমাদের দেশের কিছু তথাকথিত দেশপ্রেমিক দল ও তাদের নেতাকর্মীবৃন্দ, ইসলামী দলসুমহকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ঠাট্টা বিদ্রুপ করে থাকে।
এরা এরুপ আচরণ এজন্য করে যে,ইসলাম সম্পর্কে তাদের সাম্যক ধারনা নেই।
তারা মনে করেন ইসলাম শুধুমাত্র নামাজ রোযা এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তারা নিজেদেরকে ইসলামের ধারকবাহক মনে করে।
তাদের উদাহরণ হলো- পাগলা গারদের ভেতরে থাকা পাগলদের মত যারা বাহিরে বিচরণকারী সুস্থ মানুষদের পাগল মনে করে।
ওরা জানেনা যে – ইসলামের মূল বিষয়গুলো অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তদনুযায়ী আমল করার নাম ইমান।” রাসুল সঃ বলেন, “ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। একটি গাছের সাথেই তার পত্র-পল্লব ও ডালপালার যেরূপ সম্পর্ক, ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক তেমনি।” একজন মুসলিম দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, প্রকৃত ইমানদার হয়ে সে ইসলামকে মজবুতভাবে নিজের জীবনে সমাজ রাষ্ট্র সর্বপরি আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা করবে।
ইসলাম হলো আল্লাহ তায়ালার প্রবর্তিত ধর্ম বা জীবন বিধান। কারণ মানবজীবনের সকল বিষয় ও সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানের দিকনির্দেশনা এতে দেওয়া হয়েছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কাজকর্মের যথাযথ দিকনির্দেশনা ইসলামে বিদ্যমান।
ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল বিষয়ই ইসলামে যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা পরকালের অবস্থার বর্ণনাও ইসলামে রয়েছে। এজন্য ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা বলা হয়।
“আদেশ দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। তিনিই আদেশ করেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী করা চলবে না। আর এটাই হচ্ছে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত জীবন বিধান।” (সূরা ইউসুফ: ৪০
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّـهِ الْإِسْلَامُ ۗ
আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনবিধান হচ্ছে আল ইসলাম”। (সূরা আল ইময়ান :১৯)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ ﴿٢٠٨﴾
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামের মধ্যে পুরোপুরি প্রবেশ করো, আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না।” (সূরা বাকারা: ২০৮)
কোন মুসলমান ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে, আর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে অন্য কোন মত ও পথকে গ্রহণ করবে, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তায়ালা অন্য একটি আয়াতে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন,
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন বিধান তালাশ করবে,তার কাছ থেকে তা মোটেই গ্রহণ করা হবে না, আর আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্হদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।” সূরা আল ইময়ান: ৮৫
কোন ব্যক্তি শরীয়াতের বিধি-নিষেধ অমান্য করার মধ্যে মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণ নিহিত বলে ঘোষণা করার পর কি করে দ্বীনের অনুসরণকারী হিসেবে পরিচিত হতে পারে?
শরীয়াত লংঘন করার পর কারো পক্ষেই দ্বীনদার হিসেবে পরিগণিত হবার কোন উপায় নেই।
একজন মুসলীম সর্ব প্রথম ইসলামের অথবা আল্লাহর সৈনিক হওয়া জরুরি। অনেকেই ইসলাম বিরোধী দল সুমহের সৈনিক হিসেবে প্রচার করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।অথচ সেই দল সমূহের আদর্শ ইসলাম বহির্ভূত।
তারা ইসলামী শরিয়া হ আইনে বিশ্বাসী নন। আমরা যারা জাতীয়তাবাদ বা অন্য যে কোন মতবাদে বিশ্বাস করি সেই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলন করি তারা কস্মিনকালেও মুমিন হওয়ার দাবি করতে পারি না।ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সাধনাকে আল্লাহর সাথে ব্যাবসা করার ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।জান মাল সেই ব্যাবসার পুঁজি। খাঁটি ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যারা ময়দানে ঝাপিয় পরে তাদেরকে জান্নাত দেয়ারপ্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে কোরানে।যে জান্নাতের তলদেশ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত।অতএব জান্নাত পাওয়ার একমাত্র সঠিক পথ হলো ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজকে সদা নিয়োজিত রাখা।দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ এই প্রচেষ্টার মধ্যেই নিহিত—-
পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে এ জীবন বিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দেন। আমীন!