শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
তুরাগের নয়ানীচালায় স্বামীর পরকীয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যা, উত্তরায় তিন পরিবহনের চাঁদাবাজী মাসে কোটি টাকার বেশি  জিপি নামক চাঁদায় অসহায় চালক ও মালিকরাঃ  উত্তরায় রিকশা তাড়াতেই কাটছে ট্রাফিক পুলিশের দিন, দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে অটোরিকশাঃ  গৌরীপুরে পাম্প থেকে ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার❞ ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৮০ “ত্রিশালে বাবার হাতে শিশু সন্তান খুন” উত্তরায় পুলিশের ওপর হামলা: অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং লিডারসহ গ্রেফতার ৮ আদালতে পাঠানো ১৬” টাকা না দেওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চালান উত্তরায় রাজউকের মোবাইল কোর্ট : রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন দোকান সিলগালা লিজকৃত জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন, বাধা দেওয়াই মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি

ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ নারীর লাশ মিলল ৩৬ ঘণ্টা পর, গাফিলতির দায় কার?

রিপোর্টার নাম ঃ / ২০২ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ নারীর লাশ মিলল ৩৬ ঘণ্টা পর, গাফিলতির দায় কার?
স্টাফ রিপোর্টার | বশির আলম
গাজীপুর, ২৯ জুলাই ২০২৫
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী হোসেন মার্কেট এলাকায় খোলা ড্রেনে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া তরুণী ফারিয়া তাসনিন জ্যোতির (২৪) লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গীর বাস্তুহারা বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফারিয়া চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা, মৃত ওলিউল্লাহ আহম্মেদ বাবলুর মেয়ে। তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন এবং টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে মার্কেটিং প্রতিনিধির চাকরি করতেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (২৭ জুলাই) রাত সোয়া ৮টার দিকে ফারিয়া ওষুধ সরবরাহের কাজে টঙ্গী মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে খোলা ড্রেনে পড়ে যান। ওই ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত ছিল এবং সেখানে কোনো স্লাব কিংবা সতর্কতা চিহ্ন ছিল না।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে টানা অনুসন্ধানেও ম্যানহোল বা ড্রেনের ভেতরে তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে ৩৬ ঘণ্টা পর লাশটি ড্রেনের স্রোতে ভেসে গিয়ে বাস্তুহারা বিলে পাওয়া যায়।
গাফিলতির অভিযোগ
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী নগর কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
একজন স্থানীয় বলেন,
“অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় খোলা ড্রেন রেখে নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা হত্যার শামিল।”
আরেকজন বলেন,
“ফারিয়ার জীবনের মূল্য কে দেবে? এখন শুধু তদন্ত নয়, দায়ীদের বিচার চাই।”
দাবি উঠেছে
• দুর্ঘটনার তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠন
• গাফিলতিতে দায়ী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের শাস্তি
• ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের জবাবদিহি নিশ্চিত
• নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন,
“ড্রেনের প্রবাহে লাশটি ভেসে গিয়ে বিলে কচুরিপানার নিচে আটকে থাকতে পারে। আমাদের ডুবুরি দল টানা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।”
জনগণের প্রশ্ন: দায় কে নেবে?
গাজীপুরের টঙ্গী, উত্তর বাড্ডা, শেওড়াপাড়া, দক্ষিণ খান, আশুলিয়ার মতো এলাকাগুলিতে বহু খোলা ড্রেন দিনের পর দিন পড়ে থাকে। কোনো স্লাব বা সতর্ক বার্তা থাকে না। ফলে এমন দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে, আবারও ঘটবে — এই আতঙ্ক এখন সবার মধ্যে।
একজন তরুণীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের নগর ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ গাফিলতির পরিচয় দেয়। সময় এসেছে কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার, না হলে আরও অনেক “ফারিয়া” প্রাণ হারান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *