শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

টঙ্গীতে ছাত্রলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে হাফেজ নিহত, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
বশির আলম ##গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগরের ৩ নম্বর ব্লকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হাফেজ মো. কামরুল ইসলাম জিহাদী হত্যার ঘটনায় টঙ্গীজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত হাফেজ কামরুল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় মসজিদে দীর্ঘদিন ইমামতি করতেন এবং ‘মুসলিমীন পরিবার’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
আজ সোমবার (২২ জুলাই) সকালে তার হত্যার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
অভিযোগের তীর ছাত্রলীগ নেতার দিকে
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, টঙ্গী ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক হত্যামামলার আসামি মো. সাব্বির এবং তার স্ত্রী সুলতানা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “ফাঁসি চাই খুনি সাব্বিরের”, “সুলতানার ফাঁসি চাই”—এমন স্লোগানে সড়ক মুখর করে তোলেন।
মহাসড়কে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান
সকালে ১০টা ৩০ মিনিটে এরশাদ নগরের বড় বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে স্থানীয়রা মিছিলসহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। বক্তারা বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঘৃণ্য। যদি ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।”
হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা?
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে কেন্দ্র করে সাব্বির ও কামরুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা চলছিল। এই দ্বন্দ্ব থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনার পরপরই সাব্বির ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার পটভূমি
গত ১৫ জুলাই রাতে টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় হাফেজ কামরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত ছুরিকাঘাত চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।