শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার দাপট চরমে গিয়ে দাড়িয়েছে।
পুলিশ সদস্যরা মূল সড়কে অটো আসতে নিষেধ করলেই বাধে বিপত্তি, অবৈধ এই অটোরিশার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গেলেই হামলা শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা, এর প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয় অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও অটো মালিক সমিতির প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গসহ কিছু দালাল ও মানতি নামক বাণিজ্য করা কিছু সাংবাদিক পরিচয় দানকারীরা ।
মূল সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না অটোরিকশা চালকরা, ফলে উত্তরার প্রতিটি ট্রাফিক পয়েন্টে পুলিশের সময় কাটছে রিকশা তাড়াতেই,শরীর পুড়ে যাওয়ার মতো রোদে অসহনীয় গরমে,ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি যেন অটো তাড়াতেই সীমাবদ্ধ। তীব্র গরমে রোদে পুড়ে চালকদের ধাওয়া করে রাস্তা দখল মুক্ত রেখে”বৈধ গাড়ি চলাচলের সুব্যবস্থা করতে ব্যস্ত ট্রাফিক সদস্যরা। তবে নিষিদ্ধ এই বাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকার।
অনুমোদনহীন তিন চাকার এই অটোর কারণে মূল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়কে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সরেজমিনে উত্তরার বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, উত্তরার কামারপাড়া,ধউর বেড়িবাঁধ,পঞ্চবটী, মেট্রো স্টেশন গুলো,খালপাড়,হাউস বিল্ডিং,সোনারগাঁও জনপথ,বিএনএস সেন্টার, জসিমউদ্দীন মোড়, আজমপুর,বিমানবন্দরসহ আব্দুল্লাহপুর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাজত্ব করছে। ট্রাফিক সিগন্যাল পড়ার সাথে সাথেই অসংখ্য রিকশা মূল সড়কের লেন দখল করে নিচ্ছে।
এসকল বিষয়ে একাধিক ট্রাফিক সার্জেন্ট আক্ষেপ করে বলেন,”আমাদের কাজ ছিল যান চলাচল ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা,রাস্তায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, লেন মেনে চলা নিশ্চিত করা, এবং যানজট নিরসনে কাজ করা। ব্যস্ত মোড়ে সিগন্যাল মেনে ট্রাফিক পরিচালনা। পথচারীদের নিরাপদ পারাপার, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা। ওভারস্পিডিং, অবৈধ পার্কিং, হেলমেট ও সিটবেল্ট না পরা, মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধে জরিমানা আরোপ ও মামলা দায়ের করা। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার, ট্রাফিক স্বাভাবিক করা। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্ঘটনা কমানো এবং মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। কিন্তু এখন সারাদিন কাটে রিকশা তাড়াতে। একদিকে সরালে অন্য দিক দিয়ে আবার ঢুকে পড়ে মূল সড়কে। এদের তাড়াতে গিয়ে আমাদের মূল দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
এছাড়াও উত্তরায় বসবাসকারী ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, রাস্তার মোড়গুলোতে রিকশার জটলার কারণে সাধারণ পথচারী, বাস যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অফিস সময়ে রিকশার কারণে বাসের গতি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে,অন্যদিকে প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণ হানির ঘটনা। অলিগলি ছেড়ে রিকশাগুলো এখন হাইওয়েতে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বহুগুণে, ট্রাফিক পয়েন্ট গুলোর আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, নামমাত্র অভিযানে আটক হওয়া অটোরিকশা কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায় কিভাবে। ডাম্পিং এ থাকা ব্যাটারি মিলছে ২-১ দিন পরেই, জাম্পিং পয়েন্ট গুলোর আশপাশে দালাল চক্রের মাধ্যমে,কিছু টাকার বিনিময়ে অল্প সময়ে ব্যাটারি বুঝে পাচ্ছে অটো মালিকরা।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রিকশা নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ তাদের কাজকে কঠিন করে তুলছে:
অলিগলির সংযোগ সড়ক: উত্তরার প্রতিটি সেক্টরের সাথে মূল সড়কের অসংখ্য পকেট গেট থাকায় রিকশা অনায়াসেই মূল সড়কে ঢুকে পড়াসহ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি সাংবাদিক পুলিশ বক্স কেন্দ্রিক দালাল চক্র, অটো মালিক সমিতির লোকজনের ক্ষমতার কাছে অসহায় পুলিশ সদস্যরা।
অন্যদিকে চালকদের অসচেতনতা: আইন অমান্য করে রিকশা নিয়ে হাইওয়েতে ওঠার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ট্রাফিক পুলিশের লোকবল সংকট: পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় প্রতিটি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ধাওয়া ডাম্পিং বা লাঠি দিয়ে রিকশা তাড়িয়ে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন,প্রতিটি সেক্টরের প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি। ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশাগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান। যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা মূল সড়কে রিকশা ব্যবহার না করেন।
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দ্রুতই রিকশা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং বিশেষ ড্রাইভ শুরু করা হবে। তবে নাগরিকরা সহযোগিতা না করলে এই বিশৃঙ্খলা দূর করা অসম্ভব।