,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল।

উত্তরা প্রতিনিধিঃ আপনার রোগী আর এক ঘণ্টা বাঁচবে। দ্রুত প্রাইভেট হাসপাতালে না নিলে পথিমধ্যে রোগী মারা যাবে

ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার আগেই মারা যাবে”এভাবেই রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা।এরা মূলত শিনশিন জাপান হাসপাতালের দালাল হিসেবে নিয়োজিত। রোগী প্রতি কমিশনে কাজ করে থাকেন বলে জানান স্বজনরা।

এমন অভিযোগ রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত শিনশিন জাপান হাসপাতালের বিরুদ্ধে। রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ব্যবসায়ীরা একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, এঅভিযোগ তাদের প্রতিদিনের। রোগী মারা যাওয়ার পরেও তারা আইসিইউওতে রেখে লাখ লাখ টাকা আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানাযায়,
শিনশিন জাপান হাসপাতালে ১৩ এপ্রিল গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জ থেকে এসে ভর্তি হয় শরিফ নামের এক রোগী।তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত নিয়ে ভর্তি হন সেখানে।
ঢাকা মেডিকেলে না গিয়ে শিনশিন জাপান হাসপাতালে কি করে এলেন তার বর্ণনা দেন রোগী আব্দুল লতিফের মা নাজমা বেগম, “১৩এপ্রিল সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পরে গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জ থেকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
তিনি বলেন, আমরা রোগী নিয়ে গাজিপুরের কালিগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। টঙ্গি আসার পরে এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বলেন রোগীর অবস্থা খারাপ এক ঘণ্টা বাঁচবে। দ্রুত প্রাইভেট হাসপাতালে নিতে হবে।
এরপর কৌশলে অল্প খরচে ভালো চিকিৎসার কথা বলে ভর্তি করানোর পরে চলে টাকার জন্য নানা চাপাচাপি।
শরিফের মা বলেন,” চিকিৎসা বাবদ এরমধ্যে চার লাখ টাকা পরিশোধ করেন তারা। যার প্রতিটি টাকা মানুষের থেকে সাহায্য তুলে হাসপাতাল কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
শরিফের স্ত্রী পারুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা এতো টাকা বিল দেখে সাত দিনের মাথায় নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো ৫লাখ টাকা দাবী করেন। তাদের টাকা দিতে না পারার কারণে আমার স্বামীকে হাত-পা বেঁধে রাখেন ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান উত্তরা পশ্চিম থানার এস আই সামসুল ও হাসপাতালটির জিএম শরিফ ও ওয়াকি টকি হাতে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তি ভিকটিমের স্বজনদের সাথে টাকা আদায়ে খারাপ আচরণ করছে। সাংবাদিকদের কেনো জানানো হলো এই অপরাধে এস আই সামসুল ভিকটিমের স্বজনদের একজনকে আটক করে পুলিশের গাড়ীতে উঠানোর চেষ্টা করে। পরে সাংবাদিকদের জেরার মুখে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা ওয়াকিটকি হাতে পোষাক ছাড়া ওই ব্যাক্তি প্রতিবেদককের উপর চড়াও হন। হাসপাতালটির জিএম শরিফুল ইসলাম তখন নিজেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের এপিএস হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু নাম বলতে চান নি তিনি। অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতে অনুসন্ধান চলছে। এই ঘটনা চলাকালীন সময়ে সুযোগ বুঝে কৌশলে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন ওই ব্যাক্তি। তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেয়া হয় ভিকটিমকে। ঘটনার পুরো ভিডিও আছে অবজারভার প্রতিবেদকের কাছে।
শুধু এই ঘটনাই নয় হাসপাতালের সামনে একাধিক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, এভাবেই রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারা।
তারা আরো জানায় রোগী মারা যাবে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করে অল্প খরচে শিনশিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর কথা বলে ভর্তি করানো হয়। এরপর বেড়িয়ে আসে হাসপাতাল কতৃপক্ষের আসল রুপ।
এ বিষয়ে জানতে শিনশিন জাপান হাসপাতালের ডিরেক্টর বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উত্তরা জোনের ডিসি মোর্শেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন। বিস্তারিত থাকছে ২য় পর্বে…..

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ