,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

বাচাও বাচাও বলে চিৎকার করেও হলো না শেষ রক্ষা,আগুনে পুড়ে তিন জনের প্রাণহানি।

মাহমুদুল হাসানঃ গতকাল রাত তিনটার সময় তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকার মালিক পাগলার বস্তির ২টি টিনের ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে ঘরে অবস্থানরত চারজনের মধ্যে মৃত্যু হয় তিনজনের।

ঘটনাস্থলে থাকা মানুষজন জানান, আগুন লাগার পর এলাকাবাসী অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনের জাকির মুন্সিকে ফোন দেন বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করার জন্য। কিন্তু তাকে কলে পাওয়া যায়নি,তার বাড়িতে গেলেও কেউ আসেনি এবং লাইন বন্ধ করেনি।এরই মাঝে ঘরের সব পুড়ে যায় এবং প্রাণ হারায় তিন কিশোর-কিশোরী।নিহতরা হলেন,একটি বেসরকারি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত সুরুজের ছেলে জাহাঙ্গীর(১৮) ও ক্বওমী মাদরাসায় আলেমা পড়া ছাত্রী আফরিণ(১৩)।অন্য একজন হলো তাদেরই খালাতো বোন মোসাম্মদ রুমা(১৬)।

মৃত্যু কূপ থেকে বেরিয়ে আসা আলমগীর(২২) জানান,”আমাদের ২ টি রুমের পেছনেরটিতে আমি ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ ছোট ভাই জাহাঙ্গীরের চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙ্গে।ঘুম ভাঙ্গার পরেই দেখি ওই রুমে বিকট শব্দ আর প্রচুর আগুনে আমি কিছুই দেখতে পারছিনা।অন্যদিকে আদরের ছোট ভাই বোন আগুনের ভেতর থেকে চিৎকার দিয়ে বলে যাচ্ছে,”ভাইয়া ফ্রিজ ফুইট্টা গেসেগা,আগুনে পুইরা যাইতেছি,বাচাও ভাইয়া আমাগোরে বাচাও,মইরা গেলাম ভাইয়া!” আমি দরজা খুলতে যেতেই আমাকে বিদ্যুৎ শক করে।পরে বাহির থেকে জানিনা কে আমাকে দরজা খুলে বের করে।এরপর ছোট ভাই বোনকে বাচানোর জন্য অন্য রুমের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আমাদের সবাইকে বিদ্যুৎ শক করে ফেলে দেয়।একসময় আমার ভাই-বোনদের চিৎকার থেমে যায়। তখন আসে পাশের সবাই পানি দিয়ে আগুন নিভাতে থাকে আর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
এর পর ঘটনাস্থলে এসে পৌছান ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট।রাস্তা অনেক স্বরু হওয়ায় অগ্নি নির্বাপক গাড়ি নিয়ে ভেতরে যেতে না পেরে পাশের ডোবায় মটর বসিয়ে সেখান থেকে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগে সঠিক বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ব্যাবহার না করার ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এর আগে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সরকারি খাস জমিতে ১২০০ টাকা ভিটি ভাড়ায় বসবাস করে আসছেন এই হত দরিদ্র পরিবারটি।গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে কোন জমি জমা না থাকায় অত্র এলাকায় বসবাস করে মানুষের বাসায় কাজ ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ছেলে মেয়ে নিয়ে চাকুরী করে ময়মনসিংহ নালিতাবাড়ীতে দেড় কাঠা জমি কিনেন।নিহতদের বাবা-মা অবস্থান করছিলেন সেখানেই।
রাজউকের জমিতে ভাড়া থাকতেন পরিবারটি। আর এই অবৈধ ভিটি ভাড়া নিচ্ছেন মানিক পাগলা নামক এক ব্যাক্তি ও তার ভাই নবীন।অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকারী হলেন অত্র এলাকার জামাই খ্যাত জাকির মুন্সি।তিনি চন্ডাল ভোগ, ডিয়াবাড়িসহ আশপাশের ৫ শতাধিক বস্তিঘরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নিম্ন মানের বিদ্যুৎ এর তার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে প্রায় সময় এমন আগুনের ঘটনা ঘটে আসছে। বস্তির আশপাশের বাসিন্দারা জানান, “আমাদের একটা লাইটের জন্য চার শত টাকা জাকির মুন্সিকে দিতে হয়। নিম্ন মানের বিদ্যুৎ এর তারের কথা জাকির মুন্সিকে বললে আমাদের লাইন কেটে দিতো এই ভয়ে তারের ব্যাপারে কেউ কথা বলতো না।”
মানিক পাগলা ও তার বড় ভাই নবীন দীর্ঘদিন ধরে রাজউকের সরকারি খালি যায়গায় অবৈধ ভাবে আধাপাকা ঘর নির্মাণ ভাড়া দিয়ে আসছে। ঘর প্রতি ১২/ ১৫ শ টাকা ভাড়া আদায় করে। এই বস্তিগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পানী স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে সংযোগ দিয়ে থাকে।

এরই মধ্যে দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সব হারা পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য ছুটে আসেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব হাবিব হাসান।তিনি সংবাদকর্মীদের সামনে এসে জানান, “এই অবৈধ বিদ্যুৎ চোর জাকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য জাকিরের বিদ্যুৎ লাইন দায়ী। কোন দখলবাজ ও বিদ্যুৎ চোর ছাড় পাবে না “। সব হারা পরিবারকে কোন অনুদান দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ” তারা যেহেতু আমার জনগন, আমিইতো তাদের দেখবো। তারা লাশ যেখানে দাফন করতে চায় সেখানেই দাফন করতে পারবে। সেটা হোক তাদের গ্রামে অথবা আমাদের অত্র এলাকায়।”

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায় এখন পর্যন্ত তিনটি লাশের একটিকেও সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। শনাক্ত করার পরই তিনটি লাশ নিয়েই তাদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে দাফন করা হবে।(পর্ব ১] দখলবাজ ও চোর চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ