,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

রাজধানীর রামপুরায় বাসে আগুনের ঘটনায় মূল হোতাসহ গ্রেফতার -৪

অনলাইন ডেক্সঃ রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দিন নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনার অন্যতম মূলহোতাসহ ৪ জনকে আটক করেছে র‍্যাব।গ্রেফতাররা হলেন- মনির হোসেন (৫৪), মো. হৃদয় হাসান পারভেজ (১৯), মো. আলাউদ্দিন সিফাত (২৫) ও মো. নাঈম হাসান মীর (২৪)।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীর রামপুরা ও কুমিল্লা পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

আজ বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এবিষয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এসময় র‍্যাবের বিভিন্ন স্তরের উধর্বতন কর্মকর্তা এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার অন্যান্য অফিসাররা উপস্হিত ছিলেন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের বলেন, রামপুরায় সড়কে নিহত শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দিন রাস্তা পারাপারের সময় মারা যায়নি বরং সে নিহত হয় অনাবিল পরিবহনের হেলপারের ধাক্কায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে।

তিনি আরো বলেন, গত ২৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছিল একটি কুচক্রী মহল। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) অভিযান চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত এমন চারজন গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক ‘জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা র‍্যাবকে জানায়,ধৃত মনিরের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় রামপুরায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রামপুরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো দেশব্যাপী একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা ছিল তাদের। তারা জানতে পারে গাজীপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামপুরায় সম্ভাব্য উত্তেজনা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। ওই ঘটনাকে ব্যবহার করে তারা রামপুরার বিটিভি ভবন এলাকায় সম্ভাব্য নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের প্রস্তুতি নিয়েছিল।

র‍্যাব আরে্ে জানায়, সে অনুযায়ী গ্রেফতার মনির নাশকতা সংগঠনের জন্য আলাউদ্দিন ও নাঈমসহ আর চার-পাঁচজনকে নির্দেশনা দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আলাউদ্দিন ও হৃদয়সহ আরও তিন-চারজনকে বোতলে ভর্তি অকটেন সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতার নাঈম অগ্নিসংযোগকারী দল, সন্ত্রাসী ও হামলাকারী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে। ঘটনার সংগঠনে চক্রের বিশ্বস্ত ১৫ থেকে ২০ জনকে অগ্নিসংযোগ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতাররা সুপরিকল্পিতভাবে গাজীপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামপুরায় ঘটতে যাওয়া সম্ভাব্য ঘটনাকে ব্যবহার করে নাশকতার পরিকল্পনা করে। মূলত এই চক্রটি চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ ভাড়া’ ইস্যু অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে নাশকতার জন্য প্রস্তুত ছিল।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গত ২৯ নভেম্বর রাজধানী রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা করা হয়। এসময় চলমান শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ইস্যুকে উসকে দিতে অপপ্রচার চালানো হয়। ঘটনার পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সহিংসতার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে নিবিড়ভাবে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত, বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন গোয়েন্দারা। পরে র‌্যাব ও এনএসআই যৌথ অভিযান পরিচালনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতার সংঘবদ্ধ নাশকতা দলের অন্যতম হোতা মনিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্যসহ নাশকতার সাতটি মামলা রয়েছে। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের একজন এজেন্ট। সে রামপুরার বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটনার অন্যতম সংগঠক ও পরিকল্পনাকারী। তার নির্দেশনায় গ্রেফতাররা রামপুরায় নাশকতা সৃষ্টিতে নানাবিধ দায়িত্ব পালন ও সশরীরে অংশগ্রহণ করে নাশকতা পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেফতার আলাউদ্দিন তার নিজ গ্যারেজসহ আরও কয়েকটি স্থানে বোতলভর্তি অকটেন মজুত রাখে ও সরবরাহ করে। গ্রেফতার হৃদয় সশরীরে বাসে অগ্নিসংযোগ করে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ