,


শিরোনাম:
«» কক্সবাজার টেকনাফের এডভোকেট আব্দুর রহমান ইয়াবাসহ তুরাগে পুলিশের জালে ধরা। «» জিএম কাদেরের ফোন ছিনতাই করে ২৩ হাজার টাকা বিক্রি, বসুন্ধরা মার্কেট থেকে ৮ দিন পর খোলা ফোন উদ্ধার। «» শেরে-বাংলা নগরে প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়েই চলছে সরকারি দপ্তরের গাড়ির তেল চুরি «» উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের ছিনতাইয়ের কবলে পথচারীরা। «» আব্দুল্লাহপুরের তালাবদ্ধ গরুর সিকল কেটে থানায় এনে চাঁদা আদায় ক্ষুব্দ গরুর মালিক  «» ‘পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই, সোনার মানুষ হই ‘-শীর্ষক সেরা পাঠকদের পুরষ্কার বিতরণী «» মহানন্দা নদীতে যূবকের রহস্যজনক মৃত্যু হস্তক্ষেপ নেই দায়িত্বশীলদের «» জেলা পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র মাস্টার প্যারেড সম্পন্ন «» দখিনের দুয়ার উম্মোচনে ফরিদগঞ্জে আনন্দ র‍্যালী «» আব্দুল্লাহপুরে এনা পরিবহনের বাস চাপায় মৃত্যু পথযাত্রী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাআ’দ।

উত্তরায় পুলিশের সোর্স পরিচয়ে পকেট মাইর ও ছিনতাইকারী চক্র

উত্তরা প্রতিনিধিঃ রাজধানীর উত্তরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোর, পকেট মাইর ও ছিনতাইকারী সদস্যরা।

উত্তরার আবদুল্লাপুর মহাসড়কে জ্যামে পড়লেই সাধারণ মানুষের পড়তে হচ্ছে চোর, ছিনতাই-কারী ও পকেট-মারদের কবলে। প্রতিদিন সন্ধার পর যাত্রীবাহী বাসে উঠার সময় চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে মোবাইল মানিব্যাগসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পত্র, দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি।
দেখা যাচ্ছে পকেট মার চক্রটি হঠাৎ করেই হাত ঢুকিয়ে দিচ্ছে যার-তার পকেটে। মানুষের পকেটই যেন তাদের নিজস্ব সম্পদ। এটিকে পেশা হিসেবেও নিয়েছে অসংখ্য যুবক-যুবতি। নভেম্বর মাসের প্রথম থেকে আজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ৭৭ টি মোবাইল ও ৫৪ টি মানিব্যাগ হারানোর খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছিনতাইকারীরা প্রকাশ্যে ধারালো ব্লেড মুখে নিয়ে থাকে সবসময়।ধরা পড়তে গেলেই মুখ থেকে ব্লেড বের করে ভয় দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।এতেও যদি পরাস্ত হয় তাহলে প্রয়োজনে মানুষের বুকে,পেটে ও হাতে ব্লেডে দিয়ে জখম করে আহত করে কেড়ে নিচ্ছে মোবাইল ও টাকা পয়সা। এর বাহিরেও দেখা যায় প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যার পরে অফিসগামী সাধারণ যাত্রীরা বাসে উঠার সময় একটি সিন্ডিকেট বেপরোয়া ভাবে বাসে উঠার নাম করে যাত্রীদের পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল মানিব্যাগ টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হাতিয়ে নিচ্ছে।
তবে এরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে শুধু রাস্তাঘাটেই নয় গবির রাতে জ্যাম পড়লে চার থেকে পাঁচ জন মিলে যাত্রীবাহী বাসে উঠে অস্ত্র ঠেকিয়ে মোবাইল ফোন,টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে জোর-জবরদস্তি করে। শুধু রাতেই নয়, দিনেও করছে প্রতিযোগিতা দিয়ে। আর এসকল ছিনতাইয়ের মামলা হয়না বিধায় পুলিশের কাছে প্রকৃত পরিসংখ্যানও নেই। এদিকে ছিনতাইয়ের সাথে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন লোকাল বাসের কিছু চালক ও হেলপারসহ পুলিশের সোর্স টঙ্গী মাজার বস্তির জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

গত রবিবার সন্ধ্যা ৭:৩৫ মিনিটের সময় রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর জাওয়ার পথে একজন ব্যবসায়ীর পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে একটি সিন্ডিকেট ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী টাকা হারিয়ে অচেতন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ব্যবসায়ীকে টঙ্গী সরকারি মেডিকেলে নিয়ে যায়।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান রাজধানীর এয়ারপোর্ট হইতে গাজীপুরের চৌরাস্তা পর্যন্ত নামে বেনামে অসংখ্য পকেট মার, টানা পাটি,ও ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে, আর ছিনতাইকৃত সকল পণ্য কেনার জন্য। টঈী মাজার বস্তিতে অসংখ্য ব্যক্তি রয়েছে যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোঃ শাহালম ও মোঃ ব্লেড জাকির অন্যদিকে ব্যাংকের মাঠে মোঃ জামাল (২৮) নামক ব্যক্তির ইশারায় গ্রুপটি চলে পুরো উত্তরায়।
এখানেও রয়েছে পকেট মাইর মোঃ শকত (৪০)মোঃমিলন (৩৫) হাজী জুয়েল (৫৫) মোঃমিজান (৩৬)বাবলা (২৯) মোঃ রনি, মোঃ ডলার মিন্টু মোঃ নাদিম মোঃ আনিস। গলা কাটা মইন্না, গলাকাটা ছোটো, নাইম, জিকু। এছাড়াও সি এনজির হুট কেটে চলন্ত বাসে, থাবা বাজ গ্রুপের মোঃ সাওন ও মোঃ মিজান।
টঈী আরিচপুরের গ্রুপে রয়েছে বড় সাওন (২৫) খাটো এমরান(২৬) ছোটো শাওন (২১) রিপন (৩২) রুবেল (২৮) মনির (৩২) শুক্কুর (২৪) কোরবান (২২) শপন (২৪).ঘিরিল কাটা শরিফ সহ রমজান ও কাল্লু। আর এসকল পকেট মাইর ছিনতাইকারী চক্রটির সাথে সরাসরি ভাবে জড়িত টঙ্গী মাজার বস্তির মোঃ জাহাঙ্গীর (৩৫) জাহাঙ্গীর নিজেকে র‍্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকে তবে এই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা আছে বলেও জানান চক্রের এক সদস্য।

বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এদের ধরে মামলা দিয়ে চালান দিলেও কয়েকদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারো একই কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। পকেট মাইর চক্রের ছোট বাবু নামক এক ব্যক্তি বলেন আব্দুল্লাহপুর হাউজবিল্ডিং আজমপুর এসকল স্থানে জাহাঙ্গীর গংদের সহযোগিতায় পকেট মেরে থাকি তবে মাঝে মাঝে সাধারণ মানুষের হাতে আটক হলে জাহাঙ্গীর গং এসে দুচারটি থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেয়। এবিষয়ে এক ভুক্তভোগী বলেন গত অক্টোবর মাসে পকেট থেকে ফোন নিয়ে যাওয়ার সময় পকেট মাইর চক্রের পিছনে দৌড়ে ধরার চেষ্টা করলে পকেট মাইর চক্রের ওই ব্যক্তি দৌড়ে গিয়ে টঙ্গী ব্রীজের উপর জাহাঙ্গীর নামক ওই ব্যক্তির কাছে আমার মোবাইল ফোনটি দিয়ে দেয় পরে জাহাঙ্গীরকে দৌড়ান দিলে জাহাঙ্গীর নিজেই দৌড় দিয়ে টঙ্গী ব্রিজ পার হয়ে টঙ্গী বড় মসজিদের নিচে নেমে যায়। পরে ১০ থেকে ১২ দিন পর জাহাঙ্গীরকে আব্দুল্লাহপুর পেয়ে ফোন ফিরত চাইলে জাহাঙ্গীর উত্তরার একজন পুলিশকে ফোনে ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ বলেন, “জাহাঙ্গীর আমার লোক ও আমাদের সাথে থেকে সোর্সের কাজ করে ও আপনার ফোন নিতে পারেনা অতএব আপনার ফোন কে নিয়েছে তাকে সনাক্ত করে দিন আমরা ব্যবস্থা নেব। জাহাঙ্গীর বরঞ্চ আব্দুল্লাহপুর থেকে পকেট মাইরে নেওয়া মোবাইলগুলো থানায় জিডি হলে টঙ্গী মাজার বস্তি থেকে উদ্ধার করে আমাদেরকে সহযোগিতা করে।”

কথার একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর বলে উঠে, “আপনি এখানে দাঁড়ান আব্দুল্লাহপুরে যত পকেট মাইর ছিনতাইকারী চক্র আছে আমি সবাইকে আপনার সামনে নিয়ে আসতেছি, কে নিয়েছে আপনার ফোন আপনি দেখিয়ে দেন। এবলে মনির নামক একজন পকেট মাইরকে ভুক্তভোগীর সামনে দিয়ে জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়।

পরে মনিরের কাছে জানতে চাইলে মনির বলে ওঠে, “জাহাঙ্গীর আমাদের এখানে পকেট মাইর চক্রের সকল সদস্য থেকে প্রতিদিন টাকা নিয়ে থাকে”।
বেশিরভাগ সময় সন্ধ্যার পর আব্দুল্লাহপুর ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গীর পকেট মার চক্রের সবাইকে ধরে ধরে টাকা দাবি করে,টাকা দিতে অস্বীকার করলে পুলিশের সহযোগিতায় বক্সে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে থানায় নিয়ে জায় আবার কখনো কখনো মারধর করে ছেড়ে দেয়।
এবিষয়ে সাধারণ মানুষ দাবী করেন নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, এটাই প্রত্যাশিত।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ