,


শিরোনাম:
«» উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের ছিনতাইয়ের কবলে পথচারীরা। «» আব্দুল্লাহপুরের তালাবদ্ধ গরুর সিকল কেটে থানায় এনে চাঁদা আদায় ক্ষুব্দ গরুর মালিক  «» ‘পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই, সোনার মানুষ হই ‘-শীর্ষক সেরা পাঠকদের পুরষ্কার বিতরণী «» মহানন্দা নদীতে যূবকের রহস্যজনক মৃত্যু হস্তক্ষেপ নেই দায়িত্বশীলদের «» জেলা পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র মাস্টার প্যারেড সম্পন্ন «» দখিনের দুয়ার উম্মোচনে ফরিদগঞ্জে আনন্দ র‍্যালী «» আব্দুল্লাহপুরে এনা পরিবহনের বাস চাপায় মৃত্যু পথযাত্রী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাআ’দ। «» শিবগঞ্জে অস্ত্র ও ককটেল সহ ১৩ মামলার আসামি গ্রেপ্তারে র‍্যাব «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স সম্পন্ন «» ফরিদগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ,অভিযুক্ত যুবক আটক

তুরাগে গোসল করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন অষ্টম শ্রেণীতে পড়া বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান জোবায়ের!!!

মাহমুদুল হাসান আশিকঃরাজধানীর তুরাগের ধউর ঋষি পাড়া শ্মশান ঘাটের পাশের কার্টুন ফ্যাক্টরির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় আজ সকাল ১০ঃ৩৬ মিনিটে ৬ অজ্ঞাত শিশু-কিশোর হাতে ককশিট নিয়ে তুরাগ নদীর দিকে যাচ্ছে ।সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বুঝা যায় তারা গোসল করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে।সেখানে ছিলো অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ জোবায়ের। পিতাঃ প্রবাসী ইউসুফ ফকির,মাতাঃতানিয়া বেগম।তারা ৬ জন নদীতে নেমে সাঁতার কাটতে থাকে এবং এক পর্যায়ে হঠাৎ তারা লক্ষ্য করে যে তাদের সাথে জোবায়ের নেই। তারা অবগত হওয়ার পরেই তারা দ্রুত নদী থেকে উঠে যায় এবং তারা তাদের বাসার দিকে যাওয়ার সময় ঘাটেরই পাশের এক কারখানার শ্রমিক কে বলে আমার বন্ধু নদীতে ডুবে গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১০ঃ৫৭ মিনিটে তারা ৫ জন ফিরে যাচ্ছে। এই খবর পাওয়ার পরেই সেখানকার এক লোক নদীতে নেমে খুঁজতে শুরু করে এবং অন্য একজন জরুরী সেবা- ৯৯৯ এ কল দিয়ে ঘটনার কথা জানান।ঘটনার খবর পেয়েই ১১ঃ১০ মিনিটে তুরাগ থানার এস. আই মোঃ আনোয়ারুল ইসলামকে নিয়ে ওসি মেহেদি হাসান ঘটনাস্থলে চলে আসেন।তারই ২ মিনিট পরেই টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্য বিশিষ্ট এক দল ডুবুরি এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যাদের টিম লিডার থাকেন ইনচার্জ আবুল হোসেন।এরই মধ্যে খবর পেয়ে সংবাদ কর্মীরা সেখানে পৌঁছায়।

ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ও ওসি মেহেদি হাসান সহ আসে পাশের ফ্যাক্টরি গুলোর সিসিটিভির ফুটেজ চেক করে নিশ্চিত হয়ে ১২ঃ৩০ নদীতে ডুবুরি নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়।কারণ এর আগ অবধি কেউই সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি এখানে কেউ সত্যিই কি ডুবেছে কিনা।যখনি কনফার্ম হলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তখনি তারা দেরি না করে বেলা বরাবর ০১ঃ০০ টার দিকে নদীতে ডুবুরি মোঃ জহির অনুসন্ধান শুরু করে।ঘাটের পাশে প্রায় ১০ মিনিট খোঁজার পর ডুবুরি জহির ফিরে এসে জানায় কাউকে পাওয়া যায়নি।তখনি একজন মাঝি জানালেন ঐ দিকটা দিয়ে দেখলাম ৪/৫ জন ছেলে উঠে যাচ্ছে নদী থেকে।তখনি ডুবুরি টিম লিডার সিদ্ধান্ত নেন ঐ পাশে খুঁজে দেখার এবং মাঝির তথ্য অনুযায়ী খোঁজার জন্য ডুবুরি ডুব দেন এবং আনুমানিক ৪ মিনিট পরেই ডুবুরি জহির ১৪ বছর বয়সী কিশোরের লাশ সহ উঠে আসেন।ডুবুরি সাংবাদিকদের জানান আনুমানিক ৩৫ ফিট গভীরতায় গিয়ে লাশ পাওয়া যায়।ডুবুরি ধারনা করেন এই কিশোর নদীর তলদেশ পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে ডুব দিয়ে গিয়ে নদির তলে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আবার উপরে উঠার চেষ্টা করলে ধাক্কা দিতেই কাদার মধ্যে ছেলেটির পাঁ আটকা পড়ে এবং সেখানেই পানি খেয়ে মারা যায়।

০১ঃ১৪ মিনিটে কিশোরের লাশ উঠানোর পরেও লাশ শনাক্ত করতে পারেনি কেউ। কেউই জানেনা এই কিশোর কে! কী তার পরিচয়? এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান নৌ-পুলিশ ইন্সপেক্টর ফরিদ-উল-আলম।তখনি তুরাগ থানার ওসি এই লাশ কে ফরিদ-উল-আলম এর হস্তগত করে আনুমানিক ০১ঃ৩৮ এর দিকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং রেখা যান এস আই মোঃআনোয়ারুল ইসলাম কে। এস আই আনোয়ারুল ইসলাম অনেক খোঁজ করেও পাচ্ছিলেন না এই কিশোরের কোন অভিভাবক বা বাসার তথ্য। এক পর্যায়ে তিনি এলাকার সকল মসজিদে মাইকিং করার জন্য বলে দেন।খবর পেয়ে শত শত মানুষের ঢল নামে নদীর তীরে। সবাই এসে দেখে যায় কিন্তু কেউই চিনতে পারেনা ছেলেটিকে। এক পর্যায়ে ছেলেটির সাথে গোসল করতে আসা এক কিশোর এসে জানায় সে ছেলেটিকে চিনে।ছেলেটির বাসা হলো ধউর পিয়ার আলী মার্কেট এর ওখানে।তখনই দায়িত্বরত এস.আই কিশোরকে সাথে নিয়ে চলে যান ঐ এলাকায়।বেলা প্রায় আড়াইটা বেজে গেলেও কোনো অভিভাবকের খোঁজ খবর না পেয়ে নৌ পুলিশ ইন্সপেক্টর সিদ্ধান্ত নেন যে লাশটি সুইচ গেট হাজি বাড়ী নৌ-পুলিশ ফাড়ি নিয়ে যাবেন।

নেওয়ার সময়ই নয়ন নামের এক কিশোর দ্রুত দৌঁড়ে এসে ছেলেটিকে দেখে জানায় যে, এই ছেলেটি আমাদের বাড়িতে থাকে। তার নাম জোবায়ের তার মা আনুমানিক ৪/৫ দিন আগে তার খালার বাড়ী গেছে বেড়াতে।জোবায়ের রাজাবাড়ি হলি ইন্টাঃ স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী।এরপর ছেলেটি মৃত যোবায়েরের মাকে কয়েকবার কল করলেও কল রিসিভ করেনি।এক সময় নয়ন জোবায়েরের মামা ও নানিকে জানালে তারা ছুটে আসেন ছেলেটিকে দেখে হাউ-মাউ করে বলেন যে আমার জামাইকে আমি এখন কী জবাব দিব? মেয়েকে কী জবাব দিব? মেয়ে আমার হেফাজতে রেখে গেছে নাতি কে। মেয়ের জামাইকে কী জবাব দেব আমরা? নানি পাগল পাড়া প্রায়! এরই মধ্যে কিশোর জোবায়েরের লাশ নিয়ে চলে যান নৌ পুলিশ। লাশ আনার জন্য তাদের যেতে বলেন। তারা যে লাশ আনতে যাবে তাদের কাছে সেই ভাড়াটাও নেই পাগল পাড়া হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে। তখনি ক্রাইম নিউজ ঢাকার প্রতিনিধি তাদের রিকশা ভাড়া করে দেন এবং তখনি মৃত কিশোরের নানা এসে পাগলের মতো আচরন শুরু করে এবং নাতি হারা নানির শরিরে আঘাত ও করেন আমার নাতি কোথায় বলে।কোন জবাব দিতে না পেরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন একমাত্র নাতি হারা নানি।

 

অতঃপর মৃত কিশোরের মামা সাজ্জাদ, নানা-নানি ও মা সহ নৌ-পুলিশ ফাড়িতে গিয়ে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ধউরের নিজ বাসায় নিয়ে আসে সন্ধ্যা ০৬ঃ৩০ মিনিটের সময়।মৃত জোবায়েরের খালা ও নানি জানায় যে জোবায়ের সাঁতার জানত না।সে কখনো নদীতে বা পুকুরে গোসল করেনি। তাকে সকালে ২/৩ জন কিশোর মিলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।জোবায়েরের বাবা প্রবাসী ইউসুফ ফকিরের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার নানি জানায় এখনো তার বাবা জানেনা।তার চাচাকে জানানো হয়েছে সে সময় করে বুঝিয়ে জানাবে। দাফনের বিষয়ে জানতে চাইলে মৃত জোবায়েরের মামা জানায় ধউর মসজিদের সামনে জানাজা শেষে তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর কালিয়াটায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যাবে এবং সেখানেই দাফন করা হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ