,


শিরোনাম:
«» মহানন্দা নদীতে যূবকের রহস্যজনক মৃত্যু হস্তক্ষেপ নেই দায়িত্বশীলদের «» জেলা পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র মাস্টার প্যারেড সম্পন্ন «» দখিনের দুয়ার উম্মোচনে ফরিদগঞ্জে আনন্দ র‍্যালী «» আব্দুল্লাহপুরে এনা পরিবহনের বাস চাপায় মৃত্যু পথযাত্রী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাআ’দ। «» শিবগঞ্জে অস্ত্র ও ককটেল সহ ১৩ মামলার আসামি গ্রেপ্তারে র‍্যাব «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স সম্পন্ন «» ফরিদগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ,অভিযুক্ত যুবক আটক «» মুহাম্মদ স: কে নিয়ে বিজেপি নেতাদের কটুক্তির প্রতিবাদে তুরাগ ও উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত। «» দুই সন্তান নাজমুল ও সুপারেশ কর্তৃক বৃদ্ধা মা লাঞ্ছিত” থানায় অভিযোগ «» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরের জাজিরায় আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণ     

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃজেলার জাজিরা উপজেলার রুপবাবুর হাট সংলগ্ন মোসাম্মৎ সেলিনা বেগম’র ক্রয় কিত জমির উপর আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জাজিরা সহকারী ভূমি কমিশনার এর গাড়ী চালক সালাম সিকদারের বিরুদ্ধে ৷ গত ১৬ এপ্রিল  করোনার লকডাউন চলাকালীন অবস্থায় রাতের আধারে আদালতের ১৪৪ ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দোকান ঘরটি পুরোপুরি নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিন ঘুরে এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়  ৯৯ নং পূর্ব নাওডোবার দিয়ারা মৌজার ১০ ও ৯ নং খতিয়ানে ৬৭৯৯ এবং ৬৭৯৮ নং দাগে সাফ কবলা দলিল মূলে ৩৪ শতাংশ নালিশী ভূমি মৃত হযরত আলী মোল্লার মেয়ে মোসাম্মৎ সেলিনা বেগম (নাসিমা)২৭নভেম্বর ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব নাওডোবার ফেদু শিকদারের কান্দির মোয়াজ্জেম সিকদার ও বাসের শিকদার এর নিকট হইতে সাফ কবলা দলিল মূলে ৩৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। যাহার চৌহদ্দি-পূর্বে সেকেন্দার,পশ্চিমে সেকেন্দার শিকদার, দক্ষিনে সরকারি রাস্তা-উত্তরে বিবাদী নিজ। কিন্তু কয়েক বছর পূর্বে বাছের শিকদারের ছেলে সালাম শিকদার তার দাদী ফিরোজা বেগম এবং তার ফুফু রিজিয়া বেগমের নিকট হইতে ৯৯নং পূর্ব নাওডোবার দিয়ারা মৌজায় ১০ও ৯নং খতিয়ানে ৬৭৯৯ ও ৬৭৯৮ নং দাগের ৩৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে। সেলিনা বেগম তার ভোগ দখলকৃত গাছ লাগানো বাগান করা জমিটি রাস্তার পাশে হওয়ায় লোভের বশবর্তী হয়ে জাজিরা সহকারী ভূমি কমিশনার গাড়ি চালক সালাম শিকদার সেলিনা বেগমের অনুপুস্থিতিতে ওই জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে খুটি গাড়ে। ঢাকায় বসবাসরত ওই জমির মালিক সেলিনা বেগম এ ঘটনায় বিষয়টি জানতে পেরে বাড়ি চলে আসে। সেলিনা বেগম সালাম শিকদারের অসৎ উদ্দেশ্যের কথা ভেবে ওই জমিতে যাতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করতে পারে, তিনি নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে গত ৯ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দে ১৪৫ ধারা ফৌজদারী কার্যবিধি একটি মামলা দায়ের করেন।সালাম শিকদার আদালতের ১৪৫  ধারা অমান্য করে রাতের আধারে চুপিসারে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে সেলিনা বেগম,ভাই, ভাবি, ভাতিজা বাধা দিলে সালাম সিকদার ও তার দলবল শ্লীলতাহানি সহ মারপিট ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পূর্বের ন্যায় সেলিনা বেগম নিরুপায় হয়ে ১৪ই অক্টোবর ২০২০ শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জাজিরা সি .আর ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে।কিন্তু সালাম সিকদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে  আদালতের ১৪৪ ধারা কে অমান্য করে রাতের আধারে জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণ করে। বর্তমানে সি.আর ১৪৪  ধারা মামলাটি চলমান আছে। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উক্ত দরখাস্তের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, নাওডোবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সরোজমিনে উপস্থিত হইয়া সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তদন্তপূর্বক সেলিনা বেগম এর দখলে আছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এই বিষয়ে সেলিনা বেগম বলেন-আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগে মোয়াজ্জেম সিকদার এবং তার ভাই বাসের শিকদারের কাছ থেকে সাফ কবলা দলিল মূলে ৩৪ শতাংশ জমি ক্রয় করি।যখন জমিটি ক্রয় করি তখন জমিটি ছিল নিচু, এই নিচু জমিতে মাটি ভরাট করে ২২থেকে ২৩ বছর ধরে গাছের বাগান করে ভোগ দখল করে আসতেছি। কিন্তু পরবর্তীতে বাসের শিকদারের ছেলে সালাম শিকদার তার দাদী ও ফুফুর ওয়ারিশ সম্পত্তি ক্রয় করে আমার ভোগ  দখলকৃত জমির উপর ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করে। অথচ আমার জমিনের উত্তরে অনেক জমি রয়েছে। আমার জমির উপর ঘর উত্তোলনের  সময় বাধা দিতে গেলে আমার ভাতিজা ও ভাবীর উপর হামলা করে, তখন আমি নিরুপায় হয়ে জাজিরা থানায় গিয়ে ওসি স্যার কে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন আদালতে১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করতে।তখন আমি আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করি। কিন্তু সালাম শিকদার ১৪৪/১৪৫ ধারা অমান্য করে জোরপূর্বক ১৬ এপ্রিল রাতের অাধারে দোকানঘরটি পুরোপুরি উত্তোলন করে ৷ আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ৷ আমি যদি আইনে পাই তাহলে খাবো, না পাইলে খাইবো না।
এই বিষয়ে সালাম সিকদারের স্ত্রী বকুল বেগম বলেন-আমি আমার কিনা সম্পত্তির উপর ঘর তুলছি। আমি আমার দাদী শাশুড়ি ও ফুফু শাশুড়ির কাছ থেকে তাদের অংশ ৩৭  শতাংশ জমি ক্রয় করছি। আমি সেই জমির উপর ঘর তুলছি। আমি আমার শ্বশুর বাসের শিকদার ও চাচা শশুর মোয়াজ্জেম শিকদারের জমি খাইনা, জমি চাইও না। এই জমি নিয়ে আদালতে বন্টন মামলা চলতেছে। ১৪৪ ধারা অমান্যর বিষয় বলেন-অাদালত ১৪৪ ধারা উদ্ধো করেছেন ! তখন অামি ঘর উত্তলণ করেছি ৷ কিন্তু সে অাদালতের কোন কাগজ দেখাতে পারেননি ৷
জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজহারুল ইসলাম বলেন-যিনি এই জায়গাটাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে তার বাবা ও চাচা বাসের সিকদারও মোয়াজ্জেম সিকদার ২৬ বছর আগে সেলিনা বেগম এর কাছে এই জমিটি বিক্রয় করেন। সেলিনা বেগম এই জমিতে মাটি ভরাট করে গাছের বাগান করেন। সালাম শিকদার তার আপন দাদি ও তার ফুফুর কাছ থেকে একটি অংশ কিনে, এখন সেলিনা বেগমের জমির উপর ঘর নির্মাণ করতেছে ৷অথচ পিছনে বিশাল সম্পত্তি পরে অাছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা আছে ৷ আমার কাছেও অভিযোগ আছে। তদন্ত করে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ