,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

মাদারিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতঃপ্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হত্যা মামলা       

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের মদন মোড়ল কান্দির মান্নান মোড়লের বাড়ির সামনে গত ২৮/০৩/২১ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় লাবিব বেপারি নিহত হলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে ৷ এই ঘটনায় এলাকায় চঞ্চাল্যকর সৃস্টি হয়েছে ৷ নিহত লাবিব বেপারি (১৫) ঐ এলাকার জুলহাস বেপারির ছেলে ৷
সড়ক দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মান্নান মোড়ল,জরিনা বেগম,মোস্তফা মল্লিক,শিল্পি বেগম সহ অনেকে বলেন- হঠাৎ রাত 12 টা কি সাড়ে বারোটার সময় একটা শব্দ শুনতে পাই তাৎক্ষণিক আমরা বের হই এবং দেখতে পাই কারেন্টের খুঁটির সাথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে ৷ এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হয় । অামরা আহতদের মাথায় পানি ঢালি এবং অাশেপাশের সবাইকে ডাকি । দুজনের  কোন জ্ঞানই ছিলনা । এদের মধ্যে জুলহাস বেপারির ছেলে লাবিব’কে চিনতে পেরে তার বাড়িতে ফোন দিই ৷ তার বাড়ির লোক আসলে তাদের ভ্যান গাড়িতে করে পাচ্চর ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিই। পরদিন শুনতে পাই লাবিব বেপারিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর সময় গাড়িতে মারা গেছে। এখন শুনতেছি এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে ।
এই হত্যা মামলার সাক্ষীদের বিষয় জানতে চাইলে তারা বলেন-সাক্ষীদের বাড়ি অনেক দূরে তারা এত রাতে এখানে আসবে কেমন করে ? আমরা সাক্ষীদের কাউকে তখন দেখি নাই ।
দুর্ঘটনার সময় মটর সাইকেলে থাকা লাবিব বেপারির বন্ধু কাউসারের ঘটনার বিবরণের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় ৷ সেই ফুটেজে কাউসার বলেন-লাবিব,সুমন অার অামাকে ঘাটে নিয়ে যায় খিচুরি খাইতে ৷ ঘাটে গিয়ে দেখি লাবিবের তিন চারটা বন্ধু গাজা নিয়ে অাসছে ৷ তখন ওরা সবাই গাজা খায় অার অামাকে জোর করে কয়েক টান গাজা খাওয়ায় ৷ এতে অামি বমি করে অসুস্থ হয়ে যাই ৷ অামরা ঘাট থেকে অাসার সময় সুমনের মটর সাইকেলটি লাবিব জোর করে চালায় ৷ লাবিব অনেক জোরে জোরে কাইত কুইত দিয়ে গাড়ি চালায় এবং মান্নান মোড়লের বাড়ির সামনে তারের খুটির সাথে এক্সিডেন্ট করে ৷ এরপর কি হইছে অামি জানি না ৷ পরদিন সোনতে পাই লাবিব মারা গেছে ৷
এই বিষয়ে নিহত লাবিব বেপারির চাচা সোহেল বেপারি বলেন-পুরো বিষয়টি ধোয়াসা ! অামরা জখন ঘটনা স্থানে যাই তখন সবাই অামাদের বলে হত্যা,অার চলে অাসলে বলে দুর্ঘটনায় মারা গেছে !
বিষয়টি জানার জন্য ঘটনা স্থলে গেলে জসিম উদ্দিন মাদবর,অালমগীর হোসেন মুন্সী,অাব্দুল মজিদ মুন্সী,মালেক মুন্সী,বারেক মুন্সী,সামাদ শেখ সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তি বলেন-যেই ছেলেটা মারা গেছে সে খুব তিব্ব গতিতে মোটর সাইকেল চালাতো ! ঐ রাতে মদন মোড়ল কান্দি মান্নান মোড়লের বাড়ির সামনে কারেন্টের খুটির সঙ্গে এক্সিডেন্ট করে চালক লাবিব বেপারির মৃত্যু হয় ! এই ঘটনায় নিহত লাবিব বেপারির পিতা জুলহাস বেপারি চার পাছ দিন পরে শিবচর থানায় একটি মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন ৷ যা সম্পূর্ন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে ৷ এই মামলায় একটা বিষয় দেখলে অবাক লাগে,সেটা হচ্ছে ফরহাদ মল্লিক হত্যা মামলার অাসামীরাই এই সাজানো মামলার সাক্ষি !
উল্লেখ্য গত ২৭/০১/২১ তারিখ জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় । উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় বন্দুক, শর্ট গান, পিস্তল/রিভালবাটসহ আরও অনেক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক সংঘর্ষ চলাকালে গুলি করে ফরহাদ মল্লিক’কে(২৬) হত্যা করে ৷
এই বিষয়ে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিরাজ হোসেন বলেন-জুলহাস বেপারি ফরহাদ মল্লিক হত্যা মামলার দুই নং অাসামী ৷ তার দাবি পরিকল্পিত ভাবে তার ছেলে লাবিব’কে হত্যা করা হয়েছে ৷ এখন পোষ্টমটেম রিপোর্ট না অাসা পর্যন্ত সঠিক ভাবে বলা যাবে না যে হত্যা নাকি দুর্ঘটনা ৷
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ