,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

হাত বাড়ালইে মাদক : উদাসীন প্রশাসন

“শিবব্রত”,ফেনী:ফেনীর পরশুরামে অবাধে চলছে রম রমা মাদক ব্যবসা ও পুলিশের গ্রেফতার বানিজ্য। প্রায় প্রতিদিনই পরশুরামে কোথাও না কোথাও ঘঠছে এই অপরাধ । এই অপরাধ ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে টহলের ব্যবস্থা করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে স্থানীদের অভিমত । মাদকের ছড়া ছড়িতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরশুরামের বিশিষ্ট জনেরা । নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামীলীগের কয়েকজন পদাধিকারী নেতা জানান, পরশুরাম একটি সীমান্তবর্তী এলাকা । এই এলাকাতে নিবিঘ্নে প্রবেশ করে ভারতীয় মদ ও গাঁজা । এই ভারতীয় মদ ও গাঁজা মিলে পরশুরামে মাদকের পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে । একই সাথে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ মাদক সেবকদের আটক করলেও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে । আবার অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও সুকৌশলে বিনিময় পদ্ধতিতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। সুত্র মতে পরশুরামের উত্তরে ৩ কিমি: দুরুত্বে ভারতের আমজাদ নগর ও জেলা শহর বিলোনিয়া, ওই দেশের দালালের মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় মাদক দ্রব্য পরশুরামের চাহিদা মিটিয়ে পাচারকারীরা বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল, বিভিন্ন বাহারি রংয়ের প্রাইভেট কার ও সি,এন,জি সহ যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক বাহনে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে । চোরাই পথে আনিত এসব মাদকের কিছু অংশ ধরা পড়লেও রহস্য জনক কারনে অধিকাংশ মাদকই রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে । মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মাদকের সিংহভাগই মাদক থানা সোর্সদের মাধ্যমে পুনরায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে । এদিকে মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের যুবক ও শিক্ষার্থীরা । মাদকের অর্থ যোগান দিতে না পারায় মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে অভিভাবকদের । বিভিন্ন এলাকার পরিক্রমা : বিগত বছরে পরশুরাম পৌর এলাকায় এলাকায় ড্রেন ও রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হয়েছে, বেড়েছে নাগরিক সেবার মান। পরশুরাম হয়ে উঠেছে মডেল এলাকা। তবে সবউন্নয়ন ম্লান হয়ে গেছে মাদকের বিষে । নিবার্চনে সবাই মাদক বন্ধ করার কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও সেই মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। এলাকার উঠতী বয়সের প্রায় ছেলেরা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে । পরশুরাম পৌরসভার পূর্ব কোলাপাড়ার রাশেদা আক্তারের প্রতিক্রিয়া এমন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এক গৃহবধু বলেন সন্ধ্যা নামলেই রাস্তায় দেখা যায় তরুনদের লাল চোখ আর ফিস ফাস, এসবই মাদকের কারনে । পৌরসভা পূর্ব যারা প্রাথী হন তারাই প্রতিশ্রুতিদেন মাদক বন্ধের। কিন্তু নির্বাচন শেষে তারা আর একথা মনেই রাখেননা । এনিয়ে পরে তারা কথা বলতেও চাননা। এনিয়ে ক্ষোভঝরে নাগরিকদের কন্ঠে। পরশুরামের খোন্দকিয়া গ্রাম ও দোকানে, থানার উত্তর ও পূর্বপাশের গ্রামে, কাউতলী রোড, পূর্ব কোলাপাড়া, সি,এন,জি ষ্টেশান, বাজারের বাস টার্মিনালের শেটঘর, রেলক্রসিংয়ের দক্ষিন পাশের বস্তি, হাসপাতাল মোড়,সুবার বাজার চৌমুড়ী, অনন্তপুর মডেল হাইস্কল সংলগ্ন বস্তি ও তার উত্তর পাশের এলাকা, বাবুলের কলোনী, বৈদ্যের দীঘির পাড়ের দোকান, কোর্ট ভবনের পিছনে ও হাস পাতালের কেন্টিনে, কলেজ রোড, উপজেলা গেজেটেড কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার সংলগ্ন পরিত্যক্ত বিল্ডিং, সমাজ সেবা কার্যালয় বারান্দায়, ছয়ঘরিয়ার বাগান, টি এন টি অফিসের পিছনে, তহসিল অফিসের পুকুর পাড়ে, ও অনন্তপুর রাস্তায় প্রকাশ্যে মাদকের বেচা কেনা চলে । সন্ধ্যা হলেই বসে মাদক ও গাজা সেবনের আড্ডা । আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন এখানে ও অসহায় । তাই যারা জনপ্রতিনিধি হন তাদের কাছে স্থানীয়দের দাবী থাকে মাদক ব্যবসা যেন না হয় । এ দাবী চলে আসছে বহুকাল থেকে । কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । স্থানীয় বাসিন্দা রফিক জানান মাদক এই এলাকার দীর্ঘ দিনের সমস্যা । কোলাপাড়ার কবির জানান তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বন্ধ করার উদ্যোগ নিলেও পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় তিনি তা করতে পারেননি । এলাকায় উন্নয়ন হলেও মাদকের কারনে কর্মকান্ড অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় অধিবাসীর সমন্বিত অভিমতে জানায়, মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয় । রাজনৈতিক নেতাদের এবং সকলকে এই প্রশ্নে এক হতে হবে । কারন যারা মাদক ব্যবসা করে তারা কোন না কোন রাজনৈতিক দলের শেল্টারে করে থাকে । এব্যাপারে ফেনী জেলা পুলিশ সুত্র জানায় মাদক নিয়ন্ত্রনে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে কিন্তু সামাজিক ভাবে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে কোন অবস্থায় মাদকের করাল গ্রাসকে রুখে দেয়া সম্ভব নয় ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ