,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

সুনামগঞ্জে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা:প্রার্থীদের মাঝে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া-হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মূহুর্তে ব্যাপক ভাবে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। কারণ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। হাতে গুনা
আর কয়েকদিন বাকি আছে মাত্র। তাই জেলার ছাতক ও জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীরা তাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে খাওয়া ও ঘুম বাদ দিয়ে দিনরাত ছুটছেন ভোটারদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। দিচ্ছেন নানান
প্রকারের  ও পরামর্শ এবং নিচ্ছেন দোয়া। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহন। তাই প্রার্থীদের মাঝে চরম অস্তিরতাবিরাজ করছে। কিন্তু ভোটাররা পড়েছেন মহা চিন্তায়। কারণ নির্বাচনের সময় হলেই
নেতাদের দেখা মিলি আর অন্য সময় কাউকে খোঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়া তো আরো অনেক সমস্যা রয়েছেই।

 

এসব বিষয় নিয়ে রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারসহ বাসা-বাড়িতে ভোটারদের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ।
প্রাথীদেরকে নিয়ে করছেন চুলছেড়া বিশ্লেষন। নির্বাচনী এলাকার ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়- জেলার ব্যবসা-
বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছাতক উপজেলা। এখানে ১৯৯৭সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পৌরসভা। এরপর থেকে এই পর্যন্ত ৪বার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিবারেই আওয়ামীলীগ সমর্র্থিত প্রার্থীরা এখানে জয় লাভ করেছেন। তাই এই পৌরসভাকে আওয়ামীলীগের দূর্গ বলা হয়।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন-বর্তমান মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী। আর বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন-সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশিদা আহমদ ন্যান্সি। তারা দুজন ছাড়া তৃতীয় কোন মেয়র প্রার্থী না থাকার কারণে আগামী ১৬ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে ওই দুইপ্রার্থীর মধ্যে
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানাগেছে। তবে দলীয় মতবিরোধ না থাকার কারণে সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। আর দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী কিছুটা দূর্বল অবস্থানে রয়েছেন।

কিন্তু দুই দলের দুই প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে নেমে জোড়ালো ভূমিকা পালন করছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তবে ছাতক পৌরসভার সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫সালের ৩০শে ডিসেম্ভর। এসময় নৌকা প্রতীক নিয়ে ১০,৮২৬ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করে হ্যাট্টিক করেন আবুল কালাম চৌধুরী। আর বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ
৪,৬৫১ভোট ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শামছুর রহমান ৩,৩৫০ভোট পেয়ে পরাজিত হন।অন্যদিকে জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুর পৌরসভা। তাই এখানকার নির্বাচন হয় বেশ জোড়ালো ভাবে ডাক-ঢোল বাজিয়ে। কারণ এখানে যে কোন ধরনের নির্বাচন হলেই শুরু হয় টাকার খেলা। কিন্তু ভোটাররা
এবার খুবই সচেতন। তারা সবকিছু তুচ্ছ করে ভাল ভাবে জেনে বুঝে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানান। তবে এবারের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা ইতিমধ্যে চালিছে নানান তৎপরতা। প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের বাড়িবাড়ি যাচ্ছেন। তারা সবাই এলাকার নানান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে
ভোট ও দোয়া চাইছেন। তাদের সাথে সাথে দেশের বাহিরে থাকা কর্মী-সমর্থকরাও বিভিন্ন ভাবে নিজনিজ প্রার্থীদেরকে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো জগন্নাথপুর পৌরশহর। এব্যাপারে ভোটাররা জানান- জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত ৪নং জগন্নাথপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ ১৯৯৯সালে পৌরসভায় উন্নীত হয়। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়
জগন্নাথপুর পৌরসভা। তখন পৌরসভার প্রশাসক ছিলেন-ইউপি চেয়ারম্যান
মুকিত মিয়া। এরপর পৌর চেয়ারম্যান হন-মরহুম হারুনুর রশিদ হিরণ। সবশের্ষ পৌর
মেয়র হন-মরহুম আব্দুল মনাফ। তবে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই
করবেন-আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া। আর বিএনপি
সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন-হারুনুজ্জামান।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন-আক্তারুজ্জামান আক্তার,বিসনু চন্দ্র রায় ও আমজাদ আলী শফিক। এবারের নির্বাচনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার কারণে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বেকায়দায় পড়েছেন। তবে সব শেষে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই কবে বলে জানাগেছে। এখন শুধু
অপেক্ষার পালা। এব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়- জগন্নাথপুর পৌরসভা
নির্বাচনে এবার মেয়র পদে ৫জন ও কাউন্সিলর পদে ৩৯জন প্রার্থী লড়াই করবেন। তার মধ্যে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে ৯জন। অন্যদিকে ছাতক পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ২জন ও কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৩৩জন। তার মধ্যে সংরক্ষিত নারী
কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ১৪জন। বর্তমানে জগন্নাথপুর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা হল-২৮হাজার ৬০১জন। আর মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১টি। আর ছাতক পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা হল-৩০হাজার ২৭৮জন। মোট ভোট কেন্দ্রের
সংখ্যা ১৯টি।

জেলার নির্বাচন অফিসার মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন- নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতি পালনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করাসহ ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। অবাধ ও
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ