মুহাম্মদ রাইস উদ্দিন -
খবর প্রতিদিনঃ
লুকমান হেকিম ছিলেন একজন আরব বেদুইনের রাখাল। ছোট্ট থেকে তিনি অনেক প্রতিভাবান ছিলেন।তার বক্তৃতায় ছিলো যাদুর পরশ যে শুনতো তাকে মন্ত্রমুগ্ধ করতো।তাঁর সুনাম দিকে দিকে ছড়িয়ে পরলো।তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ছিলেন।তাকে পরিক্ষা করতে তার মালিক একদিন ডেকে পাঠায়।তিনি তার মালিকের ডাকে সাড়া দিয়ে তার কাছে চলে আসেন।
মালিকঃ আমার কথা মনযোগ সহকারে শোন! এবং সেইমত কাজ কর।
লোকমান হেকিমঃ জি জনাব বলুন!
মালিকঃ তুমি একটি মেশ জবেহ করবে এবং তা থেকে একটি উতকৃষ্ট মাংসের অংশ নিয়ে এসো!
লোকমান হেকিম ততক্ষণাত একটি মেশ জবেহ করে তা থেকে কলিজা (ক্বালব)এর টুকরো টা নিয়ে এলেন।
অতঃপর মালিক তাকে নির্দেশ দিলেন" তু্মি আরেকটি মেশ জবেহ করে তা থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মাংসের টুকরা নিয়ে এসো! লুকমান হেকিম আগের মত হৃৎপিণ্ডের টুকরো নিয়ে এলেন।
মালিক তার কারণ জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন" প্রতিটি জীবের দেহে হৃদপিন্ডই গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি ভালো থাকলে দেহ ভালো থাকে এবং এটি অসুস্থ হলে পুরো দেহটা অসুস্থ হয়ে পরে।
মালিক তাঁর যুক্তিপূর্ণ ও সন্তোষজনক জবাবে খুবই খুশি হলেন!
গল্পটি বলার কারণ হলো- মানুষের কলব যদি সুস্থ পরিচ্ছন্ন না থাকে তাহলে সে হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না।তাই কোরানে কলব সম্পর্কে আল্লাহ বিভিন্ন সময় আলোচানা করেছেন।এবার আসুন - আমারা মানব দেহের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করি!
মানুষের আধ্যাত্মিক তিনটি উপাদান: নফস, রুহ, ও কলব
নফস (মন)
নফস হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ ইচ্ছা ও চাহিদার কেন্দ্র। এটি মানুষের বিভিন্ন মানসিক চাহিদা এবং ইচ্ছাগুলোর প্রকাশস্থল। নফসকে নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি মানুষকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে টেনে নিতে পারে। নফস তিন ধরনের হতে পারে:
১. নফসে আম্মারা: পাপের প্রতি আকর্ষণ করে।
২. নফসে লাওয়ামা: পাপের জন্য অনুশোচনা করে।
৩.নফসে মুতমাইন্না: শান্তিপূর্ণ ও সন্তুষ্ট অবস্থায় থাকে।
রুহ (আত্মা)
রুহ হল মানুষের আধ্যাত্মিক সত্তা যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। রুহের কাজ হল নফসের চাহিদাগুলোকে ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করা। এটি মানুষকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয় এবং নৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করে। রুহের সঠিক পরিচালনা মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত করে তোলে।
কলব (হৃদয়)
কলব হল মানুষের অনুভূতি ও চিন্তার কেন্দ্র। এটি নফস ও রুহের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। কলবের প্রধান কাজ হল নফসের চাহিদা ও রুহের নির্দেশনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। কলব যদি পরিষ্কার ও সঠিক পথে থাকে, তবে এটি ভালো কাজের দিকে ধাবিত হয়। আর কলব যদি দূষিত হয়, তবে এটি মন্দ কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
উদাহরণ
পরিষ্কার কলব: একজন মানুষ যদি তার হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করে রাখে, তবে সে নফসের খারাপ চাহিদাগুলোকে অগ্রাহ্য করে ভালো কাজের প্রতি অগ্রসর হবে।
দূষিত কলব: যদি একজনের কলব হিংসা, ঘৃণা বা পাপের দ্বারা দূষিত হয়, তবে সে নফসের খারাপ চাহিদাগুলোকে সহজেই গ্রহণ করবে এবং মন্দ কাজের প্রতি প্রলুব্ধ হবে।
উপসংহার
মানুষের নফস, রুহ, ও কলবের এই আন্তঃসম্পর্ক বুঝতে পারলে আত্মনিরীক্ষণ ও আত্মসংযম অর্জন করা সম্ভব হয়। এটি মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
সুফিবাদের আলেমগণ আরও কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেগুলো আমার মনপুত না হয়ায় উল্লেখ করলাম না।
সুত্রঃ- গুগোল এবং নিজস্ব কিছু নোট.
এর পর তাসকিয়া এ নফস নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ