,


শিরোনাম:
«» রাজধানীর তুরাগে ডোবা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার «» উত্তরায় মা দিবস উপলক্ষে ৩০জন রত্নগর্ভা ‘মা’কে সম্মাননা «» উত্তরায় শিনশিন জাপান হাসপাতালে রোগীকে আটক রেখে নয় লাখ টাকা বিল। «» আবদুল আউয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» তুরাগ বাসীসহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার ডিলারদের অনিয়মে জিম্মি কৃষক ও চাষিরা «» ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে গাড়ির চাপায় সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত «» চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এমপি হাবিব হাসান। «» মশার অসহ্যকর যন্ত্রণায় তিক্ত তুরাগবাসী, দায়িত্বশীলরা বলছেন অসহায়ত্বের কথা «» তুরাগে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর বস্তিবাসীর হামলা। 

কুয়াকাটা পৌর নির্বাচন কালোটাকা আর বহিরাগতদের ছড়াছড়ি আতঙ্কে সাধারণ ভোটাররাঃ

 রাসেল হোসেন নিরব: পটুয়াখালীপ্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী, কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে টাকা ছড়াছড়ির পর এবার জন সাধারনের ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন প্রভাবশালী মেয়র প্রার্থী আব্দুল বারেক মোল্লা। মাঠ দখল করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত সন্ত্রসীদের এনে একাধিক হোটেলে রেখেছেন। পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় এখন ভোটারের তুলনায় বহিরাগতদের সংখ্যা বেশি। ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার ভোটারকে টার্গেট করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাম ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছে। এসব ভোটারদের ক্ষেত্র বিশেষ টাকা দিয়ে অথবা সন্ত্রাসী কর্তৃক ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করা হবে বলে জানায় সূত্রটি। সপ্তাহ জুড়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে টাকার লেনদেনের গুঞ্জণ বইছে বেশ জোরেশোরেই। পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের অনেকের সাথে কথা বলে এই তথ্যের সত্যতা মিলেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেও নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন ভোটাররা। একই শর্তে পাশর্^বর্তী লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান মেয়র আঃ বারেক মোল্লা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়েও ভোটারদের মন জয় করতে পারেননি, এটি ভাবনার বিষয়। ওই কর্মীর মতে, প্রভাবমূক্ত এবং সুষ্ঠু ভোট হলে আঃ বারেক মোল্লার জয় নিয়ে প্রচুর শঙ্কা রয়েছে। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আঃ রব মাঝী জানান, মেয়র প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লার পাঁচ ভাই পৃথক পৃথক ওয়ার্ড গুলোর দায়িত্ব নিয়ে সন্দেহের তালিকায় থাকা প্রতি ভোটারকে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নিতে বাধ্য করছেন। মহিপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মেয়র প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিয়নের যুবলীগ নেতারা সহিংসতাসহ মাঠ পর্যায়ে প্রতিপক্ষের কর্মীদের মারধর ও ভোটারদের আতঙ্কে রাখার কৌশল নিয়েছেন বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের তরুণ ভোটার ইমরান জানান, কেউ টাকা নিয়ে এলে না ধরে উপায় নেই। টাকা ফেরৎ দিলে অহেতুক রোষানলে পড়তে হবে। তার চাইতে টাকা নিলেও সময়মত উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে ঠিক করেছেন। বহিরাগত যুবলীগ কর্মীরা ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত কুয়াকাটায় অবস্থানের মিশন নিয়ে মাঠে কাজ করছেন বলে ভোটারদের সাথে আলাপকালে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওইসকল যুবলীগ কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নির্বাাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে মিছিলে অংশগ্রহণেও বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। ৯ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনকালীন অবস্থান নিয়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তার ছোট ভাই লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার উদ্দিন মোল্লা। প্রতিপক্ষ জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আনোয়ার হাওলাদার সকল বাঁধা বিপত্তির পরেও মাঠে রয়েছেন। অপর দুই মেয়র প্রার্থী ধানের শীষের আঃ আজিজ মুসুল্লী ও হাত পাখা প্রতীকের হাজী নুরুল ইসলাম দায়সারা গোছের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচনী সংহিসতা ক্রমশবাড়ছে। প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা ও অনৈতিক আবদারে সাধারণ ভোটার রয়েছে আতঙ্কে। লতাচাপলী ইউনিয়ন ইউপি সদস্য আবুল হোসেন কাজী বলেন, মেয়র আর ছোট ভাই ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেয়রের ছেলের জুলুম অত্যাচারে মানুষ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমি তাদের পক্ষে প্রচারণায় না যাওয়ায় পুলিশের সামনে আমাকে ধাওয়া করা হয়েছে। সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লা উল্টো অভিযোগে বলেন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জগ প্রতীকের আনোয়ার হাওলাদার হত্যা মামলার আসামী ও সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এ প্রসঙ্গে আনোয়ার হাওলাদার বলেন, আমার বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে আঃ বারেক মোল্লা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে কালোটাকা ছড়াচ্ছে, আতঙ্ক সৃষ্টি করছে ভোটারদের মাঝে। কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসার ও পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, কালো টাকা বিতরণের বিষয় থাকলে সেটি ফৌজদারী অপরাধ তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ