আনন্দো ভ্রমণ ২০২৫ ইং
স্থান-পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি
উদ্যোগে- বৃক্ষ বন্ধু পরিষদ
মোঃ রাইচ উদ্দিন আশুলিয়াঃ ঘুরে এলাম পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের বাড়ি ফরিদ পুর থেকে। এটি ছিলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম একটি ভ্রমন। দীর্ঘ দিন বিদেশ বিভূয়ে থাকার কারনে দেশে কোথাও ভ্রমনে যাওয়া হয়ে উঠেনি।
বিদেশে অনেক যায়গায় গিয়েছি এমনকি বিভিন্ন কমিউনিটির প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তূ এই ভ্রমনে ছিলো ভিন্ন অনুভূতি ভিন্ন স্বাদ। বন্ধুবর প্রফেসর মুহাম্মদ আলির আমন্ত্রণ ও বৃক্ষ বন্ধুর পরিষদের আয়োজনে এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করতে পেরে নিজেক গর্বিত মনেকরছি।
বিশ্বময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আল্লাহর সৃষ্টির লীলারহস্য। এই সৃষ্টিরহস্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনাদি মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রতি মুহূর্ত। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বলেছেন, ভ্রমণ স্রষ্টার সৃষ্টিরহস্য জানায়, ভ্রমণ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। প্রত্যেক মানুষেরই সাধ্যানুসারে কাছে কিংবা দূরে ভ্রমণের মাধ্যমে স্রষ্টার বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিকে দেখে অন্তরকে বিকশিত করা উচিত।
জীবন টা যদিও ছোট্ট, এই জীবনে তেমন কোনো প্রাপ্তি নাই তাই যতটা পারো জবীনকে উপভোগ কর! সৃষ্টির মধ্যে হারিয়ে যাও।
বন্ধুবান্ধবদের সাথে কিছু জায়গায় গিয়েছি, ঘুরেছি, কিন্তু সেগুলো এতটা উপভোগ্য হয়নি।
ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিলো সেজন্য স্কুল জীবনের বন্ধু মোহাম্মদ আলীর কৃতিত্বে জীবনের প্রথম এতো সুন্দর, এতো প্রাণবন্ত একটি আয়োজনের স্বাক্ষী হতে পেরেছি।এই ভ্রমনে অনে গুনিজনের সান্নিধ্যে পেয়েছি।
কেউ নাট্যশিল্পী আবার কেউ বাংলাসাহিত্যের কোন একটা দিক নিয়ে গবেষণা করছেন।কবিসাহিত্যিক কণ্ঠশিল্পী এবং কয়েক জন সাংবাদিক বন্ধুরা ছিলেন।
পল্লী কবির বাড়িতে গিয়ে তার কবরে ডালিম গাছ ও অন্যান বৃক্ষ রোপণ করা ছিলো বৃক্ষ বন্ধু পরিষদের
মূল লক্ষ্য। কবি গাছপালাকে ভালবাসতেন।গাছগাছালিতে ভরা পল্লী গায়ে থাকতে তিনি পছন্দকরতেন।
কবি জসীম উদ্দিন 'পল্লী গ্রামকে অত্যন্ত ভালবাসতেন।গ্রাম বাংলার মানুষকে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন তাই'-
তার লেখায় তাদের দুঃখ কষ্ট হাসিকান্না প্রতি ফলিত হয়েছে।কবির বাড়িটিকে তার পরিবারের লোক
(তার মেঝু ছেলে ও তার ছেলের বউ) কবির স্বপ্ন অনু্যায়ী সাজিয়েছন যাতে দর্শনার্থীদের জন্য উপভোগ্য হয়। পরিচ্ছন্ন ছিমছাম কয়েকটি টিনের ঘর।কবির বিখ্যাত কবিতা সুমহ দিয়ে পরিপাটি সাজানো ছায়া সুশীতল ছোট্ট বাড়টি।আমাদে কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
ভক্ত ও কবিপরিারের শুভাকাঙ্ক্ষী যারা তারা চায় এই বাড়িটি সরকারী করন করা হোক! কবির মেঝুছেলের বউ আমাদের জানিয়েছন-এই বাড়ি টির অংশীদার রয়েছে কবির বাকী ছেলেরা।তাঁর অন্যান্য ছেলেরা যদি এসে এখানে ঘর বাড়ি তৈরি করেন তাহলে কবির এই ঐতিহাসিক বাড়িটির অস্তিত্ব থাকবেনা।
সরকার যদি পল্লী কবি জসিমউদদীনের এই অনিন্দ্যসুন্দর বাড়িটি সরকারীকরন করে নেয় এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এর রক্ষণাবেক্ষণ করে তাহলে -তাহলে অগনিত ভক্ত বৃন্দ এবং দর্শনার্থীরা এসে কবিকে জানতে পারবে।
কবির বাড়ির সামনে যে বহতা নদীটি রয়েছে এটি কবির বাড়ির সৌন্দর্যকে শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।এটি একটি উন্নত মানের রিসোর্ট হতে পারে সোজন বাদিয়ার ঘাটকে কেন্দ্র করে।দর্শনার্থীরা
সোজন ও দুলির প্রেম কাহিনী সম্পর্কে জানবে নদীর কলকল ধ্বনী শুনবে যে ধ্বনী এখনো তাদের প্রেম গাঁথা র গল্প শোনায়। সোজন ও দুলীর প্রেম কাহিনি
কেবল একটি সাধারণ প্রেমের গল্প নয়, বরং এটি মানব জীবনের একটি ট্র্যাজিক দিককেও তুলে ধরে। প্রেমের পূর্ণতা না পেয়ে তাদের জীবন করুণভাবে শেষ হয়। দুলির বিয়ের সময় সোজনের আত্মহত্যা এবং দুলির কষ্ট ও দুঃখ মর্মস্পর্শী।
আমারা আশাকরি সরকার কবি পরবার ও কবির ভক্তদের আশা কাংখার প্রতি সুনজর দিবেন এবং অতি দ্রুততম সময়ে কবির বাড়িটি সরকারীকরন করে এর দায়িত্ব নিবেন।
বাংলাদেশে পরিচিত অপরিচিত অনেক পর্যটনকেন্দ্র ও-আকর্ষনীয় স্থান আছে। কবির বাড়িটিও সে তুলনায় কম নয়। এখনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়ে বার বার আসেন।
সর্ব শেষে বলতে চাই-কবি পরবারের যে দাবি সেই দাবি হোক সকলের প্রাণের দাবি।